Thursday, September 14, 2017
Monday, July 3, 2017
প্রেম করবেন, নাকি প্রেম করবেন না...
আবেগী মেয়েরা প্রেম করার আগে কিংবা রিলেশনে থাকা অবস্থায় কথাগুলো একটু মাথায় রাখবেন।
.
এক। বর্তমান যুগে প্রেম মানেই বলা যায় শারীরিক রিলেশন ... ধর্মীয় দিক থেকে রিলেশন অবৈধ ... ইসলামের কথা বললে, আপনি জানেন কি, বাসর ঘরে মোহরানা আদায় করার আগ পর্যন্ত বউকে স্পর্শ করা হারাম? আর সেখানে আপনি কিভাবে শুধু প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সব বিলিয়ে দেন?
.
দুই। আপনার বয়ফ্রেন্ড যখনই আপনার আপত্তি কর ছবি ভিডিও করবে তখনি বুঝে নিবেন এর ভেতত ঘাপলা আছে ... আপনাকে সত্যিকারের ভালোবাসলে কখনওই আপনার ছবি চাইবে না ... যতোই বাবু-হাবু আর সোনা-জানু বলুক তক্ষন-ই রিলেশন থেকে বের হয়ে যান।
.
তিন। কমিন্টমেন্ট ছাড়া রিলেশন মানেই ধান্দা ... ব্যবহার করা ... আর আপনার ফায়দা নেওয়া। আর্থিক ভাবে কখনোই নিজের গার্লফ্রেন্ড আর বয় ফ্রেন্ড কে সহায়তা করবেন না। যখনই বলবে বাবু হাত খালি কিছু টাকা হবে?? কাল ই দিয়ে দিবো ... সেই মুহুরতেই ডিসিশন নিন সরে আসার। কারন চরম ছেছড়া না হলে গার্লফ্রেন্ড এর কাছে বা বয়ফ্রেন্ড এর কাছে কেউ টাকা চায় না।
.
চার। নিজের গোপন কিছু তার হাতে তুলে দিবেন না। হতে পারে পারিবারিক কথা ... নিজের ফেইসবুক আইডির পাসওয়ার্ড ... নিজের ইমেল আইডি। নিজের আত্মীয়দের ফোন নাম্বার এইগুলো চাওয়া মানেই ঘাপলা।
.
পাচ। আপনার পারিবারিক মানুষ গুলোকে সে কতটুকু রেসপেক্ট করে দেখুন ... এইটা একটা মানুষ এর অনেক বড় গুন ... যে আপনাকে পেতে চাইবে সে মরে গেলেও আপনার পরিবার এর সাথে রিলেশন নস্ট করবে না। যে এক বার আপনার মা বোন কে গালি বা তাদের নিয়ে খারাপ কথা তুলবে, সে কখনোই আপনাকে নিবে না।
.
এক। বর্তমান যুগে প্রেম মানেই বলা যায় শারীরিক রিলেশন ... ধর্মীয় দিক থেকে রিলেশন অবৈধ ... ইসলামের কথা বললে, আপনি জানেন কি, বাসর ঘরে মোহরানা আদায় করার আগ পর্যন্ত বউকে স্পর্শ করা হারাম? আর সেখানে আপনি কিভাবে শুধু প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সব বিলিয়ে দেন?
.
দুই। আপনার বয়ফ্রেন্ড যখনই আপনার আপত্তি কর ছবি ভিডিও করবে তখনি বুঝে নিবেন এর ভেতত ঘাপলা আছে ... আপনাকে সত্যিকারের ভালোবাসলে কখনওই আপনার ছবি চাইবে না ... যতোই বাবু-হাবু আর সোনা-জানু বলুক তক্ষন-ই রিলেশন থেকে বের হয়ে যান।
.
তিন। কমিন্টমেন্ট ছাড়া রিলেশন মানেই ধান্দা ... ব্যবহার করা ... আর আপনার ফায়দা নেওয়া। আর্থিক ভাবে কখনোই নিজের গার্লফ্রেন্ড আর বয় ফ্রেন্ড কে সহায়তা করবেন না। যখনই বলবে বাবু হাত খালি কিছু টাকা হবে?? কাল ই দিয়ে দিবো ... সেই মুহুরতেই ডিসিশন নিন সরে আসার। কারন চরম ছেছড়া না হলে গার্লফ্রেন্ড এর কাছে বা বয়ফ্রেন্ড এর কাছে কেউ টাকা চায় না।
.
চার। নিজের গোপন কিছু তার হাতে তুলে দিবেন না। হতে পারে পারিবারিক কথা ... নিজের ফেইসবুক আইডির পাসওয়ার্ড ... নিজের ইমেল আইডি। নিজের আত্মীয়দের ফোন নাম্বার এইগুলো চাওয়া মানেই ঘাপলা।
.
পাচ। আপনার পারিবারিক মানুষ গুলোকে সে কতটুকু রেসপেক্ট করে দেখুন ... এইটা একটা মানুষ এর অনেক বড় গুন ... যে আপনাকে পেতে চাইবে সে মরে গেলেও আপনার পরিবার এর সাথে রিলেশন নস্ট করবে না। যে এক বার আপনার মা বোন কে গালি বা তাদের নিয়ে খারাপ কথা তুলবে, সে কখনোই আপনাকে নিবে না।
.
ছয়। সুন্দরী মেয়েদের বলছি ... আমি সুন্দর। আমার জন্যে ছেলেরা পাগল। এই ধরনের মানসিক বিকৃত রুচি থেকে বের হয়ে আসুন ...বিয়ে করার জন্যে কেউ হট মেয়ে খুঁজে না। খুঁজে একটা ভালো সুশীল মেয়ে। আপনি যতটা হট, বিয়ের জন্যে আপনি ততটাই ডাম্প।
.
সাত। আজাইরা মানুষের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট, ফিল্টার মেসেজ এইগুলো ইগনোর করুন। নিজের পিকচার আইডি তে প্রাইভেসি দিন ... নিজেকে যতটা সুন্দর আর পরিপাটি করে ঢেকে রাখবেন ততটাই আপনি সুনাম এর অধিকারী হবেন।
.
আট। আপনার সবচাইতে নিরাপদ স্থান আপনার পরিবার। সো আগে পরিবার এর কথা ভাবুন। অনেক সময় রক্ষক ও ভক্ষক হয়। জামাই মেরে তক্তা বানায়। সেটেল ম্যারেজ এ। সেই ক্ষেত্রে ডাইরেক্ট একশন। নিজে ঠিক তো দুনিয়া ঠিক।
.
নয়। সৃষ্টিকর্তাকে ভয় করুন। খারাপ কাজ মনে আসলে এর পরিনতির কথা ভাবুন। আপনাকে কেউ হট কুল বলছে ... কিন্তু বিপদে এদের কাউকেই পাবেন না। সো মেয়েরা প্লিজ লাগে নিজেকে প্রদর্শন করা বন্ধ করুন। অবশ্যই ছবি দিন কিন্তু শালিন ভাবে ... ফেইসবুকে পিকচার না দেওয়াটাই BETTER
.
দশ। যে আপনাকে ভালোবাসবে ... সে আপনাকে নিয়ে ঘর করতে চাইবে ... সে কখনোই আপনার সাথে শুইতে চাইবে না ... মজা নিবে না। তার মাথায় থাকবে কিভাবে আপনাকে সারাজীবনের জন্যে পাবে। লক্ষন মিলিয়ে সরে পড়ুন। আর ভালো লক্ষন হলে সাপোর্ট দিন
এর পর ও আপনারা মেয়েরা ফেসে যান ... ধরা খান, বিপদে পরেন। এর পর ও ভুল হয়। অন্যায় হয়, বিপদ আসে।
লেখা~ Sabuj Joydhor
copied from: দোস্ত ১ মিনিট দাড়া, আমি ২ মিনিটের মধ্যে আইতাছি
posted on: July 01, 2017, 2.10am
Saturday, May 13, 2017
নির্দিষ্ট ব্যাবধানঃ রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
তোমার থেকে আমার মাঝের
ব্যবধান শুধু একটি রাত
সুনির্দিষ্ট একটি দিন,
তোমার থেকে আমার মাঝের
ব্যবধান শুধু একটি ঘর
অলৌকিক এক শূন্যতা ।
তোমার থেকে আমার বুকের
ব্যবধান এক করুন চাঁদ
আগুন ঘষা আকাশটা,
তোমার থেকে আমার চোখের
ব্যবধান এক রম্য কাঁচ
কালো ফ্রেমের ব্যর্থতা ।
তোমার থেকে আমার পথের
ব্যবধান এই বাতাসটুকু
ঘৃন্যতম নিসর্গ,
তোমার থেকে আমার মাঝের
ব্যবধান ঐ নীল হাসি
বিষন্নতার দুইটি ঠোঁট ।
তোমার থেকে আমার মাঝের
ব্যবধান শুধু তুমি আমি,
অমীমাংসিত তিনটি হাত ।
Sunday, May 7, 2017
তোমরা আছো বলেই আমি আছি, তোমরা না থাকলে আমিও থাকবো না: MsH
ছোটবেলা থেকেই রক্ষণশীল পরিবারে আমার বেড়ে ওঠা। কর্মসূত্রে বাবা রুপালী ব্যাংক এর কর্মকর্তা ছিলেন। পরবর্তীতে রাজশাহী সড়ক পরিবহণ গ্রুপেও কাটিয়েছেন বেশ কিছু সময়। অফিসের কাজে বাবাকে বেশিরভাগ সময়ই বাইরে থাকতে হত, তাই বাবার সান্নিধ্য তেমন পাওয়া হয়নি।
আমরা দুই ভাই আর আপার বেড়ে ওঠা মায়ের হাতেই। মা ই আমাদের শিখিয়েছেন পরের মুখাপেক্ষী না হয়ে স্বগৌরবে কিভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে হয়।
পরিবারে আমরা সবাই সবাইকে অনেক বেশি ভালবাসি, কিন্তু বাহ্যিকভাবে কেউ কখনই তা প্রকাশ করিনা, আসলে করা হয়নি। আর আমাদের ভেতরে সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে আমরা কেউ কখনই কারো নিজস্ব বিষয়ে নাক গলানোর চেষ্টা করিনা, যা ই করি না কেন, পাশে থেকে সবসময় উৎসাহ দেয়ার চেষ্টা করি।
বাবার মৃত্যুর পর ভাই ই বলতে গেলে আমার যাবতীয় বিষয়ে খোঁজখবর রাখে। তবে কখনই বলেনি, ''শাহীন, এইটা কর, এটা করিস না, এটা কেন করলি'' ইত্যাদি ইত্যাদি। যখন যা প্রয়োজন, বলার আগেই সে হাজির করেছে আমার সামনে।
বেঁচে থাকার জন্য, কিছু জীবনকে বাঁচানোর জন্য, কিছু মুখে হাসি ফুটানোর জন্য, কিছু স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য, কিছু প্রতিজ্ঞা পূরণের জন্য যে যোগ্যতা-দক্ষতা-কর্মক্ষমতা-ইচ্ছা ইত্যাদির প্রয়োজন, তিলে তিলে তা অর্জনের চেষ্টায় নিমগ্ন আয়েশা বেগম ও মরহুম সাদেক আলীর ছোট ছেলে শাহীন।।
বাবা আজ নেই, মা আছেন- মা'কে নিয়েই তাই সাঁজাতে চাই আমার আগামীর পথচলা। আর এই পথচলায় ছায়ার মত পাশে চাই প্রিয় ভাই ও বোনকে, কেননা তাঁরা আছে বলেই আমি আছি- তাঁরা না থাকলে আমিও থাকতাম না।।।
Saturday, May 6, 2017
গন্তব্যহীনঃ MsH
দীর্ঘ ২৩ বছরের জীবনে যা ঘটেনি, গতদিন তা-ই ঘটল। আমার বড় ভাই আমার দুই গালে থাপ্পর বসিয়ে দিয়ে বলল, "বছর খানেক পর বাসায় আসার কি দরকার ছিল, না আসলেই তো পারতিস!! এতো রাগ করলে চলে??'
আমায় দেখার পর মা তো কেঁদেই ফেললেন। আমিও মায়ের পা জড়িয়ে ধরে অনেকক্ষণ কাঁদলাম, আর বললাম, "আমায় ক্ষমা কর মা, এই পর্যায়ে এসেও আমি তোমার জন্য কিছুই করতে পারছি না।।" পক্ষান্তরে মা বললেন, "মন খারাপ করিস না বাপ, আমার দু'আ তোর সাথে আছে, তুই পারবি।"
বাসায় এসেছি শুনে বোন-দুলাভাইও ছুটে এসেছে আমার সাথে দেখা করার জন্য। বোনতো আমাকে দেখে খুব খুশি। দুলাভাই বারবার তাগাদা দিচ্ছে, "শাহীন, চল মার্কেট থেকে ঘুরে আসি, কিছু কেনাকাটা করা হোক।" এদিকে বোন যা বলল তা শুনে আমিতো লজ্জা-ই পেয়ে গেলাম। বোনের ভাষ্য, "ভাই, তুই যেই গাছটার আম পছন্দ করিস, সেই গাছে এবার কাউকে হাত দিতে দিইনি, ঐ গাছের সব আম তোর।"
ভাগ্না-ভাগ্নি আর ভাস্তি যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছে আজ। সেজান একটু পরপর বলছে, "মামা বলেন তো, ৫ আর ২ যোগ করলে কত হয়?' এদিকে প্রাপ্তি বলছে, "কাকু, ট্রেন দেখতে যাবো, জলদি চল।"
উপরে যা কিছু লিখলাম, সবই গতরাতে স্বপ্নে ঘটেছে, বাস্তবে নয়। ঘুমটা ভেঙ্গে যাবার পর থেকেই নিজেকে কেমন জানি শুন্য শুন্য মনে হচ্ছে। কোথায় যেন পড়েছিলাম, মানুষের মৃত্যু ঘনিয়ে আসলে দূরত্বে থাকা প্রিয় মুখগুলো বারবার চোখের সামনে ভেসে ওঠে, তবে কি আমার মৃত্যুও...!!!
😡
Friday, April 7, 2017
পুরুষরা কি মানুষ না?? (লিখেছেনঃ ছোটবোন)
(একটি ছেলে আমার ভাই, একজন পুরুষ আমার বাবা, আর একজন পুরুষ যে হবে
আমার ভবিষ্যৎ।
তাই কথা গুলা সব মেয়ের পড়া উচিত।)
তাই কথা গুলা সব মেয়ের পড়া উচিত।)
যখন মাথায় তেল দিয়ে নম্র ভদ্র শান্ত
ছেলেটি বালিকা বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে হেঁটে যায় চুপচাপ, তখন হুঁ হুঁ করে হেসে উঠা মায়ের জাতিরা কেমন করে বিব্রত করে?
আমাদের কি ঘরে বাপ ভাই নেই?
ছেলেটি কি বাপের জাত না?
বাপকে কি সম্মান করা যায় না?
আমাদের কি ঘরে বাপ ভাই নেই?
ছেলেটি কি বাপের জাত না?
বাপকে কি সম্মান করা যায় না?
গাড়িভাড়া গুলোও ঐ ছেলেটিই
দিচ্ছে, বাসের সিট ছেড়ে দিচ্ছে, লাইনে দাঁড়ালে আগে যেতে দিচ্ছে, বিপদে পরলে
দৌড়ে আসছে, আনন্দে হাসছে, বেদনায়
সান্ত্বনা দিচ্ছে, আশা দিচ্ছে, ভরসা
দিচ্ছে, রাগ করে গালিও দিচ্ছে, আবার
অতি কষ্টের ভাগীদার হয়ে গোপনে কাঁদছে।
কখনো ভেবেছি সম্মানিত মা জাতি
হিসেবে, কেমন লাগে ঐ তেল মাথায় কেবলাকান্ত ছেলেটির যখন
বুঝতে পারে একদল মেয়ে ব্যঙ্গ করছে তাকে নিয়েই?
ভেবেছি কি কখনো?
আমারও কল করা উচিত,
ও কেন ফোনটা কেটে দিয়ে কল ব্যাক করে সবসময়?
আমারও কল করা উচিত,
ও কেন ফোনটা কেটে দিয়ে কল ব্যাক করে সবসময়?
কখনো অনুভব করেছি কি? কেমন লাগে ঐ মুহূর্তে একটি ছেলের
যখন তার পকেট পুরো ফাঁকা।
অথবা শেষ ১০০ টাকা বিল দিলে আগামী সাতদিন তাকে হেঁটে টিউশন
করতে যেতে হবে? তবুও বিল টা সেই দেয়।
কারণ সে বাপের জাত।
কই কখনো ভাবি নি তো,
যখন তার পকেট পুরো ফাঁকা।
অথবা শেষ ১০০ টাকা বিল দিলে আগামী সাতদিন তাকে হেঁটে টিউশন
করতে যেতে হবে? তবুও বিল টা সেই দেয়।
কারণ সে বাপের জাত।
কই কখনো ভাবি নি তো,
তারা ভাই,
তারা বাবা,
তারা প্রিয়তম,
তারা বন্ধু,
তারা হারামী।
তাদের কত্ত দায়িত্ব!
আমরা শুধু নিয়েই যাচ্ছি।
কেন বিনিময়ে দিতে পারছি না?
মায়ের জাতি হয়ে তিন গুণ বেশি পাওনা আমার।
কিন্তু বাপের জাতিকে এক ভাগ ও দেই না কেন?
ভাবি নি...
ভাবার সময় হবেও না হয়তো।
আমি অপরাধী,
আমি নির্বোধ,
আমি পাপী,
হে বাপের জাতি ক্ষমা কর....
তারা বাবা,
তারা প্রিয়তম,
তারা বন্ধু,
তারা হারামী।
তাদের কত্ত দায়িত্ব!
আমরা শুধু নিয়েই যাচ্ছি।
কেন বিনিময়ে দিতে পারছি না?
মায়ের জাতি হয়ে তিন গুণ বেশি পাওনা আমার।
কিন্তু বাপের জাতিকে এক ভাগ ও দেই না কেন?
ভাবি নি...
ভাবার সময় হবেও না হয়তো।
আমি অপরাধী,
আমি নির্বোধ,
আমি পাপী,
হে বাপের জাতি ক্ষমা কর....
#ছোটবোন
Friday, March 24, 2017
গাছভাই নাচভাইঃ শামীম হোসেন
গ্রন্থকথনঃ
নিমেষেই পড়ে শেষ করলাম কবি শামীম হোসেনের ছড়ার বই ‘গাছভাই নাচভাই’। দু’বার পড়ার পর আমার মনে হয়েছে তাঁর পুরো বইটাকে আমরা দুটো অধ্যায়ে বিভক্ত করতে পারি।
একভাগ প্রতিনিধিত্ব করবে ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ’৭১ এর স্বাধীনতা সংগ্রাম, জাতির পিতা শেখ মুজিব, তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল, এবং দিনশেষে নিজ জন্মভুমির সবুজ প্রকৃতির মাঝে ফিরে চাওয়া। অপরভাগে রয়েছে শৈশবের খেলাধুলা, বাবার প্রতি শিশুর আবদার, পাখি-বৃষ্টি-বনদস্যু আর চিরাচরিত ভূতমামা।
এবার তাহলে ১ম ভাগের মূল আলোচনায় আসা যাকঃ
ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২’র ফেব্রুয়ারিতে সালাম-বরকত-রফিক-জব্বার বাংলা ভাষার যে বীজ বপন করে গেছেন, কবি তা দেখেছেন এভাবে-
ফুলে ফুলে ভাসবে বেদিমূল
একুশ আমার বর্ণমালার ফুল,
একুশ এলে কৃষ্ণচূড়া লাল,
একুশ তবে ভাষার মহাকাল।
একুশ আমার বর্ণমালার ফুল,
একুশ এলে কৃষ্ণচূড়া লাল,
একুশ তবে ভাষার মহাকাল।
ভাষা আন্দোলন শেষে ২৪ বছর অপেক্ষার পর শুরু হয় পাকিস্তানের অধীনতা থেকে মুক্তির জন্য আমাদের মুক্তি সংগ্রাম, স্বাধীনতা সংগ্রাম, কবির ভাষায়-
সেই পাখিটি মানতে নারাজ
পরের অধীনতা
মুক্ত পাখি আকাশজুড়ে
শুধুই স্বাধীনতা।
পরের অধীনতা
মুক্ত পাখি আকাশজুড়ে
শুধুই স্বাধীনতা।
স্বাধীনতা সংগ্রাম শেষ, কিন্তু যিনি না থাকলে আমাদের এই সংগ্রাম পূর্ণতা পেতনা, তিনি জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান। তাইতো কবি বলেছেন-
আকাশ বিশাল নীলের ছোঁয়ায়
গোলাপ ছড়ায় সৌরভ
টুঙ্গিপাড়ার একটি ছেলে
আমাদেরই গৌরব।
গোলাপ ছড়ায় সৌরভ
টুঙ্গিপাড়ার একটি ছেলে
আমাদেরই গৌরব।
’৭৫র আগস্টে ঘাতকের বুলেট কেড়ে নিয়েছিল শেখ মুজিব এবং তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের প্রাণ। তাঁদেরই একজন শেখ রাসেল- জাতির জনকের কনিষ্ঠ পুত্র। কবি তাঁকে স্মরণ করেছেন এভাবে-
রাসেল তোমায় পড়ছে মনে আজ
বুকের ভেতর খুলছি এখন ভাঁজ
........................................
নদীর মত ফুলের মত তুমি
তোমার জন্য কাঁদে জন্মভূমি।
বুকের ভেতর খুলছি এখন ভাঁজ
........................................
নদীর মত ফুলের মত তুমি
তোমার জন্য কাঁদে জন্মভূমি।
দিনশেষে কবিও অন্য সবার মত মিশে যেতে চেয়েছেন নিজ দেশের সবুজ প্রকৃতির মাঝে। তাঁর ভাষায়-
আমার ভেতর একটি দুটি তারা
জাগিয়ে রাখে সারা আকাশ পাড়া
আকাশ থেকে মাটির দিকে নামি
দেখি আমার সবুজ জন্মভূমি।
জাগিয়ে রাখে সারা আকাশ পাড়া
আকাশ থেকে মাটির দিকে নামি
দেখি আমার সবুজ জন্মভূমি।
এবার ২য় ভাগের আলোচনাঃ
শিশুকালে আমরা নানান খেলায় মেতে থাকতাম, কবিও ছোট্ট সিজুর খেলা প্রসঙ্গে বলেছেন-
খেলার তালে আলমারিটায়
যেই দিয়েছে থাবা
হাত ভাঙেনি কাচ ভাঙেনি
নিজেই তখন হাবা।
যেই দিয়েছে থাবা
হাত ভাঙেনি কাচ ভাঙেনি
নিজেই তখন হাবা।
খেলা শেষ, এখন ক্ষুধা পেয়েছে, চলুন খেয়ে নেয়া যাক। আর খাবার সময় যদি পিঁপড়া পিছু না নেয় তবে কি হয়!!
একহাতে নাও তরমুজটা
কানে ঝোলাও লিচু
অন্য হাতে ডালটা ধরো
পিঁপড়ে নেবে পিছু।
কানে ঝোলাও লিচু
অন্য হাতে ডালটা ধরো
পিঁপড়ে নেবে পিছু।
খেলা শেষ, খাওয়া শেষ, এদিকে ঈদও এসে গেছে। ঈদ উপলক্ষে কত আবদারই আমাদের থাকতো আমাদের প্রিয় বাবার প্রতি। সেই আবদার যদি এমন হয়, তবে-
এবার ঈদে নতুন জামা
সঙ্গে নেবো জুতো,
যা নিবো তাই দিতে হবে
নইলে দেবো গুঁতো।
সঙ্গে নেবো জুতো,
যা নিবো তাই দিতে হবে
নইলে দেবো গুঁতো।
ঈদ শেষ, বসন্ত এসেছে, গাছে গাছে পাখি ডাকছে, ফুল ফুটছে-
পাখি ডাকে গাছের ডালে
আমার বাড়ি কোণে
পাখি ডাকে নদীর ধারে
দুরের কোনো বনে।
আমার বাড়ি কোণে
পাখি ডাকে নদীর ধারে
দুরের কোনো বনে।
পাখি ডাকছে, কিন্তু সেও আছে মহাচিন্তায়। বনদস্যুরা গাছ কেটে পুরো বন মরুভুমি বানাতে ব্যাস্ত। আর অন্য পশুগুলোও ভীতসন্ত্রস্ত। কিভাবে?
শেয়াল নাকি ভাবছে শুধু
হরিণ ভয়ে কাবু
বনের ভেতর উঠছে গড়ে
শিকারিদের তাবু।
হরিণ ভয়ে কাবু
বনের ভেতর উঠছে গড়ে
শিকারিদের তাবু।
সবই শেষ, আমার লেখাও। গাছ শেষ, প্রকৃতি শেষ, শেষ রুপকথার ভুতের ভয়ও। তবুও মানুষরুপী বনদস্যুদের দেখে ভূত দেখার মতই আমরা থতমত খেয়ে যাই। কবির ভাষায়-
ভূতের ছড়া ভূতের গল্প আছে ভূতের ভয়
ভূতকে নিয়ে মাতামাতি অনেক কিছু হয়
মানুষগুলো ভূতের মত দেখতে যদি হত
তোমরা সবাই হরহামেশা খেতে থতমত।
ভূতকে নিয়ে মাতামাতি অনেক কিছু হয়
মানুষগুলো ভূতের মত দেখতে যদি হত
তোমরা সবাই হরহামেশা খেতে থতমত।
(আমি সাহিত্যের ছাত্র নই, সাহিত্য সম্পর্কে জ্ঞানও আমার যতসামান্য। চেষ্টা করেছি নিজ মতামতকে প্রাধান্য দিতে। তবে এটুকু বলতেই হয়, প্রকৃতি-শৈশব-গাছ-পাখি-বৃষ্টি-ভূত ইত্যাদির পাশাপাশি ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিব, শেখ রাসেল, স্বদেশপ্রেম ইত্যাদির সাথে যারা নিজ শিশু-কিশোরদের পরিচিত করাতে চান, তাঁদের জন্য এক আদর্শ সংগ্রহ হতে পারে ‘গাছভাই নাচভাই’।।)
মোঃ শাহীন হোসেন
বিবিএ মার্কেটিং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
বিবিএ মার্কেটিং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
Tuesday, January 31, 2017
মা, মাগো...
মা, হ্যাঁ গর্ভধারিণী মা,
লালন-পালনকারী মা, নীতি নৈতিকতার শিক্ষাদানকারী মা।
মা,
ছোটবেলা থেকে দেখছি আমাদের একটু ভাল রাখার জন্য, একটু ভালভাবে বড় করার জন্য, একটু ভাল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কি অক্লান্ত পরিশ্রমই না করে যাচ্ছেন ।
মা, হ্যাঁ মা,
খাদ্য-বস্ত্র-মনুষ্যত্ব দানকারী মা,
আচার-আচরণ শিক্ষাদানকারী মা,
সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার কাণ্ডারি মা,
স্বগর্বে মাথা উঁচু করে বাঁচার অনুপ্রেরণা দানকারী মা,
মৃত্যুর পর স্বর্গের ঠিকানা দানকারী মা।।
জন্মদানের সময় কষ্ট করেছেন, লালনপালনের সময় কষ্ট করেছেন, কষ্ট করেছেন নিজে আধপেট খেয়ে আমাদের ভরপেট খাওয়ানোর ক্ষেত্রেও। তবুও, কখনো কি বলেছেন, ‘’তোকে বড় করে আমার কি লাভ!!’’
কিছু ভালোবাসা লাভ-লস বুঝে না, বাঁধা-বিপত্তি বুঝে না, বুঝে না কোন স্বার্থ, শুধু বুঝে ভালবাসতে, ভালো রাখতে।।
কোন একটা অনলাইন পত্রিকায় পড়েছিলাম, সৈয়দপুরের কোন এক স্কুলের শিক্ষার্থীরা মায়ের পা ধুইয়ে নিজ হাতে তাঁদের মায়েদের খাবার খাইয়ে দিচ্ছে।
ইস, কতই সৌভাগ্যবান সেই শিশু-কিশোরগুলো…
ভালোবাসা পৃথিবীর সকল মায়েদের প্রতি।।
(Md. Shahin Hossain)
Monday, January 23, 2017
Subscribe to:
Posts (Atom)




