Saturday, May 13, 2017

নির্দিষ্ট ব্যাবধানঃ রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

তোমার থেকে আমার মাঝের
ব্যবধান শুধু একটি রাত
সুনির্দিষ্ট একটি দিন,
তোমার থেকে আমার মাঝের
ব্যবধান শুধু একটি ঘর
অলৌকিক এক শূন্যতা ।
তোমার থেকে আমার বুকের
ব্যবধান এক করুন চাঁদ
আগুন ঘষা আকাশটা,
তোমার থেকে আমার চোখের
ব্যবধান এক রম্য কাঁচ
কালো ফ্রেমের ব্যর্থতা ।
তোমার থেকে আমার পথের
ব্যবধান এই বাতাসটুকু
ঘৃন্যতম নিসর্গ,
তোমার থেকে আমার মাঝের
ব্যবধান ঐ নীল হাসি
বিষন্নতার দুইটি ঠোঁট ।
তোমার থেকে আমার মাঝের
ব্যবধান শুধু তুমি আমি,
অমীমাংসিত তিনটি হাত ।

Sunday, May 7, 2017

তোমরা আছো বলেই আমি আছি, তোমরা না থাকলে আমিও থাকবো না: MsH

ছোটবেলা থেকেই রক্ষণশীল পরিবারে আমার বেড়ে ওঠা। কর্মসূত্রে বাবা রুপালী ব্যাংক এর কর্মকর্তা ছিলেন। পরবর্তীতে রাজশাহী সড়ক পরিবহণ গ্রুপেও কাটিয়েছেন বেশ কিছু সময়। অফিসের কাজে বাবাকে বেশিরভাগ সময়ই বাইরে থাকতে হত, তাই বাবার সান্নিধ্য তেমন পাওয়া হয়নি।
আমরা দুই ভাই আর আপার বেড়ে ওঠা মায়ের হাতেই। মা ই আমাদের শিখিয়েছেন পরের মুখাপেক্ষী না হয়ে স্বগৌরবে কিভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে হয়।
পরিবারে আমরা সবাই সবাইকে অনেক বেশি ভালবাসি, কিন্তু বাহ্যিকভাবে কেউ কখনই তা প্রকাশ করিনা, আসলে করা হয়নি। আর আমাদের ভেতরে সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে আমরা কেউ কখনই কারো নিজস্ব বিষয়ে নাক গলানোর চেষ্টা করিনা, যা ই করি না কেন, পাশে থেকে সবসময় উৎসাহ দেয়ার চেষ্টা করি।
বাবার মৃত্যুর পর ভাই ই বলতে গেলে আমার যাবতীয় বিষয়ে খোঁজখবর রাখে। তবে কখনই বলেনি, ''শাহীন, এইটা কর, এটা করিস না, এটা কেন করলি'' ইত্যাদি ইত্যাদি। যখন যা প্রয়োজন, বলার আগেই সে হাজির করেছে আমার সামনে।
বেঁচে থাকার জন্য, কিছু জীবনকে বাঁচানোর জন্য, কিছু মুখে হাসি ফুটানোর জন্য, কিছু স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য, কিছু প্রতিজ্ঞা পূরণের জন্য যে যোগ্যতা-দক্ষতা-কর্মক্ষমতা-ইচ্ছা ইত্যাদির প্রয়োজন, তিলে তিলে তা অর্জনের চেষ্টায় নিমগ্ন আয়েশা বেগম ও মরহুম সাদেক আলীর ছোট ছেলে শাহীন।।
বাবা আজ নেই, মা আছেন- মা'কে নিয়েই তাই সাঁজাতে চাই আমার আগামীর পথচলা। আর এই পথচলায় ছায়ার মত পাশে চাই প্রিয় ভাই ও বোনকে, কেননা তাঁরা আছে বলেই আমি আছি- তাঁরা না থাকলে আমিও থাকতাম না।।।

Saturday, May 6, 2017

গন্তব্যহীনঃ MsH

দীর্ঘ ২৩ বছরের জীবনে যা ঘটেনি, গতদিন তা-ই ঘটল। আমার বড় ভাই আমার দুই গালে থাপ্পর বসিয়ে দিয়ে বলল, "বছর খানেক পর বাসায় আসার কি দরকার ছিল, না আসলেই তো পারতিস!! এতো রাগ করলে চলে??' 

আমায় দেখার পর মা তো কেঁদেই ফেললেন। আমিও মায়ের পা জড়িয়ে ধরে অনেকক্ষণ কাঁদলাম, আর বললাম, "আমায় ক্ষমা কর মা, এই পর্যায়ে এসেও আমি তোমার জন্য কিছুই করতে পারছি না।।" পক্ষান্তরে মা বললেন, "মন খারাপ করিস না বাপ, আমার দু'আ তোর সাথে আছে, তুই পারবি।" 

বাসায় এসেছি শুনে বোন-দুলাভাইও ছুটে এসেছে আমার সাথে দেখা করার জন্য। বোনতো আমাকে দেখে খুব খুশি। দুলাভাই বারবার তাগাদা দিচ্ছে, "শাহীন, চল মার্কেট থেকে ঘুরে আসি, কিছু কেনাকাটা করা হোক।" এদিকে বোন যা বলল তা শুনে আমিতো লজ্জা-ই পেয়ে গেলাম। বোনের ভাষ্য, "ভাই, তুই যেই গাছটার আম পছন্দ করিস, সেই গাছে এবার কাউকে হাত দিতে দিইনি, ঐ গাছের সব আম তোর।" 

ভাগ্না-ভাগ্নি আর ভাস্তি যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছে আজ। সেজান একটু পরপর বলছে, "মামা বলেন তো, ৫ আর ২ যোগ করলে কত হয়?' এদিকে প্রাপ্তি বলছে, "কাকু, ট্রেন দেখতে যাবো, জলদি চল।"

উপরে যা কিছু লিখলাম, সবই গতরাতে স্বপ্নে ঘটেছে, বাস্তবে নয়। ঘুমটা ভেঙ্গে যাবার পর থেকেই নিজেকে কেমন জানি শুন্য শুন্য মনে হচ্ছে। কোথায় যেন পড়েছিলাম, মানুষের মৃত্যু ঘনিয়ে আসলে দূরত্বে থাকা প্রিয় মুখগুলো বারবার চোখের সামনে ভেসে ওঠে, তবে কি আমার মৃত্যুও...!!! 😡