Friday, February 16, 2018

শহীদ আজাদ- কিছু না জানা কথা...






ছবির ছেলেটাকে চেনেন?

বলতে গেলে ঢাকার সবচেয়ে বড় লোক পরিবারের ছেলে ছিল। তখনকার দিনে যখন ১ম শ্রেণীর অফিসারের বেতন ছিল খুব বেশি হলে ৫০০-৬০০ টাকা, সে এলভিস প্রিসলির গান শোনার জন্য এক ধাক্কায় ১০০০ টাকার রেকর্ড কিনে আনতো। সিগারেট হিসেবে তখনকার সব থেকে দামী ব্র্যান্ড ছাড়া অন্যটা খেত না। তাদের বাড়িতে হরিণ ছিল, সরোবরে সাঁতার কাটত ধবল রাজহাঁস, মশলার বাগান থেকে ভেসে আসত দারুচিনির গন্ধ(ডাকে পাখি খোলো আঁখি, এই গানটার শুটিং হয়েছিল তাদের বাড়িতে)।

জ্বী হ্যা, আমি মাগফার উদ্দিন চৌধুরী আজাদ এর কথা বলছি।

আজাদ ক্লাস সিক্সে পড়ে, সেন্ট গ্রেগরি। ১৯৬০ এর দশক। আজাদের বাবা আরেকটা বিয়ে করবেন। আজাদের মা বললেন, তুমি বিয়ে করবে না, যদি করো, আমি একমাত্র ছেলে আজাদকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাব। আজাদের বাবা আরেকটা বিয়ে করলে আজাদের মা সাফিয়া তার বালকপুতের হাত ধরে ওই রাজপ্রাসাদ পরিত্যাগ করেন এবং একটা পর্ণকুটীরে আশ্রয় নেন। ছেলেকে লেখাপড়া শেখান। আজাদ ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে মাস্টার্স পাস করে।
তার বন্ধুরা যোগ দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধে, ফিরে এসেছে আগরতলা থেকে, ট্রেনিং নিয়ে। তার ঢাকায় গেরিলা অপারেশন করে। বন্ধুরা আজাদকে বলল, চল, আমাদের সাথে, অপারেশন করবি। তুই তো বন্দুক পিস্তল চালাতে জানিস। তোর আব্বার তো বন্দুক আছে, পিস্তল আছে, তুই সেগুলো দিয়ে অনেকবার শিকার করেছিস।
আজাদ বলল, এই জগতে মা ছাড়া আমার কেউ নেই, আর মায়েরও আমি ছাড়া আর কেউ নেই। মা অনুমতি দিলেই কেবল আমি যুদ্ধে যেতে পারি।
মাকে আজাদ বলল, মা, আমি কি যুদ্ধে যেতে পারি?
মা বললেন, নিশ্চয়ই, তোমাকে আমার প্রয়োজনের জন্য মানুষ করিনি, দেশ ও দশের জন্যই তোমাকে মানুষ করা হয়েছে।
আজাদ যুদ্ধে গেল।
দুটো অপারেশনে অংশ নিল। তাদের বাড়িতে অস্ত্র লুকিয়ে রাখা হলো। গেরিলারা আশ্রয় নিল।

১৯৭১ সালের ৩০ আগস্ট। ধরা পড়ে ক্র্যাক প্লাটুনের একদল সাহসী মুক্তিযোদ্ধা। সেসময় আজাদকেও আটক করা হয়। তাকে ধরে নিয়ে রাখা হলো রমনা থানা সংলগ্ন ড্রাম ফ্যাক্টরি সংলগ্ন এম.পি হোস্টেলের মিলিটারি টর্চার সেলে।
গরাদের ওপারে দাড়িয়ে থাকা আজাদকে তার মা চিনতে পারেন না। প্রচণ্ড মারের চোটে চোখমুখ ফুলে গেছে, ঠোঁট কেটে ঝুলছে, ভুরুর কাছটা কেটে গভীর গর্ত হয়ে গেছে।
–“মা, কি করব? এরা তো খুব মারে। স্বীকার করতে বলে সব। সবার নাম বলতে বলে।“
–“বাবা, তুমি কারোর নাম বলোনি তো?
–না মা, বলি নাই। কিন্তু ভয় লাগে, যদি আরও মারে, যদি বলে দেই…
–বাবারে, যখন মারবে, তুমি শক্ত হয়ে থেকো। সহ্য করো। কারো নাম বলো না।
–আচ্ছা মা। ভাত খেতে ইচ্ছে করে। দুইদিন ভাত খাই না। কালকে ভাত দিয়েছিল, আমি ভাগে পাই নাই।
–আচ্ছা, কালকে যখন আসব, তোমার জন্য ভাত নিয়ে আসব।
সাফিয়া বেগমের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে যায়। গায়ে হাত তোলা তো দূরে থাক, ছেলের গায়ে একটা ফুলের টোকা লাগতে দেননি কোনোদিন। সেই ছেলেকে ওরা এভাবে মেরেছে… এভাবে…
মুরগির মাংস, ভাত, আলুভর্তা আর বেগুনভাজি টিফিন ক্যারিয়ারে ভরে পরদিন সারারাত রমনা থানায় দাড়িয়ে থাকেন সাফিয়া বেগম, কিন্তু আজাদকে আর দেখতে পাননি। তেজগাঁও থানা, এমপি হোস্টেল, ক্যান্টনমেন্ট-সব জায়গায় খুজলেন, হাতে তখন টিফিন ক্যারিয়ার ধরা, কিন্তু আজাদকে আর খুঁজে পেলেন না।
ছেলে একবেলা ভাত খেতে চেয়েছিলেন। মা পারেননি ছেলের মুখে ভাত তুলে দিতে। সেই কষ্ট-যাতনা থেকে পুরো ১৪টি বছর ভাত মুখে তুলেন নি মা! তিনি অপেক্ষায় ছিলেন ১৪ টা বছর ছেলেকে ভাত খাওয়াবেন বলে। বিশ্বাস ছিলো তাঁর আজাদ ফিরবে। ছেলের অপেক্ষায় শুধু ভাতই নয়, ১৪বছর তিনি কোন বিছানায় শোন নি। শানের মেঝেতে শুয়েছেন শীত গ্রীষ্ম কোন কিছুতেই তিনি পাল্টান নি তার এই পাষাণ শয্যা। আর এর মুল কারণ আজাদ রমনা থানায় আটককালে বিছানা পায়নি।
প্রজন্ম কিংবদন্তি আজাদদের চিনেনা, চিনে হলিউডের অ্যাকশন চলচ্চিত্র।
শেয়ার করে সবাইকে ইতিহাস'টি পড়ার সুযোগ করে দিন।
ভালো থাকুক জীবনের প্রেমগুলো। ভালো থেকো কিংবদন্তী।"
(কপি: শেখ মিকাইল হোসেন)

Wednesday, February 14, 2018

আজ মাহফুজের বিয়ে






আজ মাহফুজের বিয়ে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ মাইশাকে চিরকালের জন্য পেতে চলেছে সে। কথাটা ভাবতেই এক অন্যরকম অনুভূতি খেলা করছে মাহফুজের মনে আর মনে পড়ে যাচ্ছে কলেজজীবনের সেই দিনগুলোর কথা।
কলেজে থাকাকালীন খুব লাজুক প্রকৃতির ছেলে ছিল মাহফুজ। মেয়ে বন্ধুদের সাথে সে বরাবরই কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখতো। কলেজে ভর্তির পর তাঁর মূল লক্ষ্যই ছিল ভাল একটি রেজাল্ট করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হউয়া। তাই কোন মেয়ে বন্ধুর সাথে তেমন সখ্য তাঁর কখনই গড়ে ওঠেনি। কিন্তু কিছুদিন যাবার পরই এক মেয়ে তাঁর আলাদাভাবে দৃষ্টি কাঁড়ে।
মেয়েটি, মানে মাইশা বোরখা পড়ত, আপাদমস্তক ধাকা, এমনকি মুখমণ্ডল দেখারও কোন সুযোগ নেই। মাহফুজ মাইশাকে প্রথম দেখেছিল কোন এক সকালে কলেজ প্রাঙ্গনে। এরপর থেকে যতবার মাইশাকে দেখেছে, ততবারই মনে হয়েছে মেয়েটি মাহফুজের কতকালের চেনা, কত কাছের। অথচ তখনও সে তাঁর নামটাও জানে না।
ও বলা হয়নি, মাইশা আর মাহফুজ ক্লাশমেট ছিল।


একদিন কোন এক কারণবশত মাইশার সাথে তাঁর ফোন নম্বর আদানপ্রদান হয়। এরপর অল্প অল্প করে কথাবার্তা চলতে থাকে। মাহফুজ যতই মাইশার সাথে কথা বলে, ততই মাইশাকে আপন মনে হয়। এভাবে চলতে চলতে কখনযে এই ভালোলাগা ভালোবাসায় রুপান্তরিত হয়েছে, মাহফুজ তা বুঝতেই পারেনি।
এভাবেই কেটে গেল কলেজের ২ বছর। দুজনেই ভর্তি পরীক্ষা দিল, বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্সও পেল, তবে দুজন আলাদা দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। মাহফুজ-মাইশার ফোনালাপ চলতেই থাকল। এরই মাঝে মাহফুজ মাইশাকে তাঁর ভালোবাসার কথা জানালো, তবে হ্যাঁ বা না- এর কোনটাই মাইশা জানায়নি। এদিকে মাহফুজও ছেড়ে দেবার পাত্র নয়। সে বন্ধুর মতই মাইশার খোঁজ-খবর নিত, পড়াশুনা কেমন হচ্ছে জানার চেষ্টা করত।
সময়ের সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাস্ততা গ্রাস করে দুজনকে। একে অপরের খোঁজখবর নেয়া আসতে আসতে কমতে থাকে। তবুও মাহফুজ আশায় ছিল এই বুঝি মাইশা তাঁকে বলবে, ‘আমিও ভালবাসি তোমায়।’ না, তা কখনো হয়নি। মাইশা কখনই বলেনি সে মাহফুজকে ভালোবাসে। মাহফুজ কখনই মাইশার সুন্দর চেহারাখানি দেখেনি, তবে তাঁর বিশ্বাস ছিল মাইশা ঠিক তাঁর স্বপ্নের রাজকন্যার মতই হবে। মাহফুজ এই আশায় বুক বেধেছিল যে, যদি ভাগ্যে থাকে, তবে সে অবশ্যই মাইশাকে পাবে।
হ্যাঁ, আজ মাহফুজের সেই ভাগ্যপূরণের দিন। কেননা, দীর্ঘ ৮ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে আজ। ভাগ্যের খেলায় দোদুল্যমান এক সম্পর্কের পরিনতি পাবার দিন আজ। ভালোলাগা থেকে ভালোবাসার পূর্ণতা পাবার দিন আজ। মাহফুজের স্বপ্নের সেই রাজকন্যাকে প্রাণভরে দেখার দিন আজ।
মাহফুজ বরযাত্রী নিয়ে মাইশাদের বাসায় গেছে। মৌলভিসাহেব বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারছেন। বিয়ের পূর্বশর্ত- ‘কবুল’ কথাটি মাহফুজ ইতোমধ্যে বলেও ফেলেছে। এখন মাইশার কবুল বলার পালা। মাইশা কবুল বলতে যাবে, ঠিক তখনই মাহফুজের মনে হল কে যেন তাঁকে ডাকছে। চোখ খুলে দেখে তাঁর মা, মাহফুজ বুঝল এতক্ষন যা ঘটেছে তাঁর সবই স্বপ্নে।।
মাইশাকে বিয়ের স্বপ্ন- মাহফুজের তাই স্বপ্নই থেকে গেল।

(শাহীন হোসেন)
  

Friday, February 9, 2018

আমাদের মতিমালা, রাজশাহীর মতিমালা








"এই জোসনা - ঘড়ি দেব, আংটি দেব, মালা দেব রে,,,
হাতি দেব, ঘোড়া দেব, সাইকেল দেব রে,,,,
মতিমালা আ আ আ... "

- কার কার মনে পড়লো?

হ্যাঁ, আজ আপনাদের শোনাব রাজশাহীতে অতি পরিচিত মুখ- মতিমালা’র কথা।

রাজশাহী নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের শিরইল কলোনি ৪ নম্বর গলির বাসিন্দা ছিলেন তিনি। তাঁর আসল নাম আমার জানা নেই। তাঁর এই নাম তাঁর পেশার কল্যাণে। তিনি ময়দা আর চিনি মিশ্রিত এক প্রকার মিষ্টান্ন বিক্রি করে করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

তাঁর কথা মনে পড়তেই মনটা খারাপ  হয়ে গেল, কেননা বেশ কবছর আগেই তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে আমার শৈশবে দেখা অকৃত্রিম একজন ভাল মানুষ ছিলেন তিনি


উনি যখন মিষ্টান্ন বিক্রি করতে আসতেন, তখন সবাই উনার কাছ থেকে কিছু না কিছু কিনতো আর আমি তাকিয়ে দেখতাম আমার মন খারাপ দেখে মতিমালা চাচা বলত, ‘মন খারাপ করিসনা বেটা, আমি আছি তোতখন তিনি পরম যত্নে তাঁর মিষ্টান্ন দিয়ে আমার আঙ্গুলে আংটি বানিয়ে দিতেন আর বলতেন, ‘যা বেটা খেলাধুলা করগা

তাঁর মিষ্টান্ন বিক্রির পদ্ধতি ছিল অভিনব বিকেল হলেই তাঁরএই মতি মতি, মতিমালা আ আ আ…” ডাক আমরা শুনতে পেতাম তিনি মিষ্টান্ন দিয়ে আংটি, হোন্ডা, সাপ, ক্রিকেট ব্যাট, ঘুরি, কলম ইত্যাদি বানিয়ে দিতেন আর আমরা পরম তৃপ্তি সহকারে তা খেতাম ছোটবেলায় আমার খুব পছন্দের খাবার ছিল মতিমালা চাচার নিজ হাতে তৈরিমতিমালা

আজ চাচা আমাদের মাঝে নেই, তবে বেঁচে আছে তাঁর স্মৃতিগুলো
স্রস্টা উনাকে জান্নাত নসিব করুন

 (মোঃ শাহীন হোসেন, এমবিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)


( ছবিঃ 'Rajshahi is the best city' ফেসবুক গ্রুপ থেকে সংগৃহীত)



Wednesday, February 7, 2018

গ্রন্থকথন- শামীম হোসেনের গাছভাই নাচভাই


গ্রন্থকথনঃ
নিমেষেই পড়ে শেষ করলাম কবি শামীম হোসেনের ছড়ার বই ‘গাছভাই নাচভাই’। দু’বার পড়ার পর আমার মনে হয়েছে তাঁর পুরো বইটাকে আমরা দুটো অধ্যায়ে বিভক্ত করতে পারি।
একভাগ প্রতিনিধিত্ব করবে ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ’৭১ এর স্বাধীনতা সংগ্রাম, জাতির পিতা শেখ মুজিব, তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল, এবং দিনশেষে নিজ জন্মভুমির সবুজ প্রকৃতির মাঝে ফিরে চাওয়া। অপরভাগে রয়েছে শৈশবের খেলাধুলা, বাবার প্রতি শিশুর আবদার, পাখি-বৃষ্টি-বনদস্যু আর চিরাচরিত ভূতমামা।
এবার তাহলে ১ম ভাগের মূল আলোচনায় আসা যাকঃ
ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২’র ফেব্রুয়ারিতে সালাম-বরকত-রফিক-জব্বার বাংলা ভাষার যে বীজ বপন করে গেছেন, কবি তা দেখেছেন এভাবে-
ফুলে ফুলে ভাসবে বেদিমূল
একুশ আমার বর্ণমালার ফুল,
একুশ এলে কৃষ্ণচূড়া লাল,
একুশ তবে ভাষার মহাকাল।
ভাষা আন্দোলন শেষে ২৪ বছর অপেক্ষার পর শুরু হয় পাকিস্তানের অধীনতা থেকে মুক্তির জন্য আমাদের মুক্তি সংগ্রাম, স্বাধীনতা সংগ্রাম, কবির ভাষায়-
সেই পাখিটি মানতে নারাজ
পরের অধীনতা
মুক্ত পাখি আকাশজুড়ে
শুধুই স্বাধীনতা।
স্বাধীনতা সংগ্রাম শেষ, কিন্তু যিনি না থাকলে আমাদের এই সংগ্রাম পূর্ণতা পেতনা, তিনি জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান। তাইতো কবি বলেছেন-
আকাশ বিশাল নীলের ছোঁয়ায়
গোলাপ ছড়ায় সৌরভ
টুঙ্গিপাড়ার একটি ছেলে
আমাদেরই গৌরব।
’৭৫র আগস্টে ঘাতকের বুলেট কেড়ে নিয়েছিল শেখ মুজিব এবং তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের প্রাণ। তাঁদেরই একজন শেখ রাসেল- জাতির জনকের কনিষ্ঠ পুত্র। কবি তাঁকে স্মরণ করেছেন এভাবে-
রাসেল তোমায় পড়ছে মনে আজ
বুকের ভেতর খুলছি এখন ভাঁজ
........................................
নদীর মত ফুলের মত তুমি
তোমার জন্য কাঁদে জন্মভূমি।
দিনশেষে কবিও অন্য সবার মত মিশে যেতে চেয়েছেন নিজ দেশের সবুজ প্রকৃতির মাঝে। তাঁর ভাষায়-
আমার ভেতর একটি দুটি তারা
জাগিয়ে রাখে সারা আকাশ পাড়া
আকাশ থেকে মাটির দিকে নামি
দেখি আমার সবুজ জন্মভূমি।
এবার ২য় ভাগের আলোচনাঃ
শিশুকালে আমরা নানান খেলায় মেতে থাকতাম, কবিও ছোট্ট সিজুর খেলা প্রসঙ্গে বলেছেন-
খেলার তালে আলমারিটায়
যেই দিয়েছে থাবা
হাত ভাঙেনি কাচ ভাঙেনি
নিজেই তখন হাবা।
খেলা শেষ, এখন ক্ষুধা পেয়েছে, চলুন খেয়ে নেয়া যাক। আর খাবার সময় যদি পিঁপড়া পিছু না নেয় তবে কি হয়!!
একহাতে নাও তরমুজটা
কানে ঝোলাও লিচু
অন্য হাতে ডালটা ধরো
পিঁপড়ে নেবে পিছু।
খেলা শেষ, খাওয়া শেষ, এদিকে ঈদও এসে গেছে। ঈদ উপলক্ষে কত আবদারই আমাদের থাকতো আমাদের প্রিয় বাবার প্রতি। সেই আবদার যদি এমন হয়, তবে-
এবার ঈদে নতুন জামা
সঙ্গে নেবো জুতো,
যা নিবো তাই দিতে হবে
নইলে দেবো গুঁতো।
ঈদ শেষ, বসন্ত এসেছে, গাছে গাছে পাখি ডাকছে, ফুল ফুটছে-
পাখি ডাকে গাছের ডালে
আমার বাড়ি কোণে
পাখি ডাকে নদীর ধারে
দুরের কোনো বনে।
পাখি ডাকছে, কিন্তু সেও আছে মহাচিন্তায়। বনদস্যুরা গাছ কেটে পুরো বন মরুভুমি বানাতে ব্যাস্ত। আর অন্য পশুগুলোও ভীতসন্ত্রস্ত। কিভাবে?
শেয়াল নাকি ভাবছে শুধু
হরিণ ভয়ে কাবু
বনের ভেতর উঠছে গড়ে
শিকারিদের তাবু।
সবই শেষ, আমার লেখাও। গাছ শেষ, প্রকৃতি শেষ, শেষ রুপকথার ভুতের ভয়ও। তবুও মানুষরুপী বনদস্যুদের দেখে ভূত দেখার মতই আমরা থতমত খেয়ে যাই। কবির ভাষায়-
ভূতের ছড়া ভূতের গল্প আছে ভূতের ভয়
ভূতকে নিয়ে মাতামাতি অনেক কিছু হয়
মানুষগুলো ভূতের মত দেখতে যদি হত
তোমরা সবাই হরহামেশা খেতে থতমত।
(আমি সাহিত্যের ছাত্র নই, সাহিত্য সম্পর্কে জ্ঞানও আমার যতসামান্য। চেষ্টা করেছি নিজ মতামতকে প্রাধান্য দিতে। তবে এটুকু বলতেই হয়, প্রকৃতি-শৈশব-গাছ-পাখি-বৃষ্টি-ভূত ইত্যাদির পাশাপাশি ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিব, শেখ রাসেল, স্বদেশপ্রেম ইত্যাদির সাথে যারা নিজ শিশু-কিশোরদের পরিচিত করাতে চান, তাঁদের জন্য এক আদর্শ সংগ্রহ হতে পারে ‘গাছভাই নাচভাই’।।)
মোঃ শাহীন হোসেন
বিবিএ মার্কেটিং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রাণের বইমেলা: শাহীন হোসেন


এসেছে বইমেলা, এসেছে প্রাণের আবেগ
বইপাড়া আজ মেতে উঠেছে কর্মযজ্ঞে।
এতদিন এদিক ওদিক দৌড়ে বেড়ানো মানুষগুলো 
খুঁজে পেয়েছে তাঁদের মিলনমেলা-বাংলা একাডেমী;
ফেব্রুয়ারী এলেই আমরা পুরোদস্তুর বাঙালি হয়ে যাই,
তৃষ্ণা মেটানোর জন্য ঝাঁপদেই বাংলার রুপসমুদ্রে-
বাংলা একাডেমী, বয়রাতলা, সোহরাওয়ারদী,
মুখরিত আজ হাজারো মানুষের পদচারনায়।
মানুষগুলো, দোকানগুলো, কবি-সাহিত্যিকেরা, সবাই-
আজ এবং আগামী একমাস এভাবেই বেঁধে রাখবে একেঅপরকে।
এবং এরপর-
বাংলা চর্চা, সাহিত্যচর্চা, কবিতা চর্চা, কবিত্বচর্চা,
যেমন চলছিল, তেমনই চলবে।
আশা একটাই-
বাংলা, বাঙালি, বাংলাদেশ-
জেগে থাকবে চিরকাল কোটি মানুষের হৃদস্পন্দনে।।


Monday, February 5, 2018

রুমমেটের প্রেম, গ্যাঁড়াকলে বন্ধু

আমার রুমমেট প্রেম করে, সে এক ঐতিহাসিক প্রেম! দিনে ১০ মিনিট ভালো থাকলে ২৩ ঘন্টা ৫০ মিনিট লেগে থাকে সাইক্লোন লেভেলের ঝগড়া! মানবতার খাতিরে আমাকেই দু জনের ঝগড়া মিটমাট করে দিতে হয়। আমার ভিতরে আবার মানবতা বেশি!
.
একদিন মোবাইলে যথারীতি লুতুপুতু রোমান্স থেকে হুট করেই দুজনের মধ্যে শিলা বৃষ্টির মত পটাশ পটাশ ঝগড়া শুরু হলো। দুজনই খানিকক্ষণ চিল্লাপাল্লা করে ঠাস ঠাস করে ফোন রেখে দিলো! রুমমেট আমারে দুঃখভারাক্রান্ত হইয়া বলিলো, "দোস্ত আমি তো শ্যাষ! আজকের ঝামেলা একটু বেশী প্যাঁচায়া গেছে। আমারে বাঁচা!"
আমি গম্ভীর একটা ভাব নিয়া বলিলাম, "ধুর হ্লা! প্রেম করিস তোরা, মজাও লস তোরা, আর প্যাঁচে পড়লে আমি? যাহ পারুম না!"
বন্ধু বলিলো, "দোস্ত , একটু দেখ না প্লিজ! বিকেলে তোরে মোগলাই খাওয়ামু। তুই না ব্ল্যাক সিগ্রেট পছন্দ করস? খাড়া এক্ষুনি এক প্যাকেট আনতেসি..."
.
বন্ধুর কথা শুনে আমার মন একটু নরম হলো। মানবতা বেড়ে গেলো তরতর করে। বন্ধুরে রে বললাম, "কি যে মুশকিলে ফালাইলি! এদিকে তোর মন খারাপটা ও আমার ভালো লাগে না। কিন্তু খবরদার আর কখনো ঝগড়া করবি না! আচ্ছা এবারই কিন্তু শেষ! নেক্সট টাইম কিন্তু এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারবি না! রুমমেট ঘাড় বাঁকিয়ে সম্মতি দিলো। আমি বললাম, আচ্ছা এক কাজ কর ফোনটা অফ করে বাইরে গিয়ে সিগ্রেট নিয়ে আয়। আর আমি এদিকে দেখি কি করা যায়"
রুমমেট আমার কথা শুনে বাধ্য বালকের মত মোবাইলের সুইচ অফ করে সিগারেট আনতে দোকানের দিকে চলে গেলো। আমি তখন আমার নিজের ফোন থেকে ৬০ পয়সা খরচ করিয়া ওর গার্লফ্রেন্ডের নাম্বারে একখানা মেসেজ প্রেরণ করিলাম-
"কি ব্যাপার এসব কি শুরু করেছেন আপনারা? এইভাবে ঝগড়া করে আমার বন্ধুটাকে না খাইয়ে রাখবেন? বেচারা না খেয়ে শুয়ে শুয়ে কাঁদতেছে!"
মেসেজ টা পাওয়া মাত্র আমার রুমমেটের গার্লফ্রেন্ড ওর নাম্বারে ফোন দেয়। কিন্তু ওর ফোন তো বন্ধ করায়া রাখসি। মেয়েটি ওর নাম্বার বন্ধ পেয়ে আমার নাম্বারে কল দিলোঃ
- হ্যালো ভাইয়া?
- হুম বলেন।
- ওর ফোন বন্ধ কেন? ও কোথায়?
- কোথায় আবার! ওই যে না খেয়ে ফোন বন্ধ করে পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে। ( ডাহা মিছা কথা! অনেক আগেই দুজন খেয়ে টেয়ে ঢেঁকুর তুলসি....) আসলে ছেলেটা আপনাকে অনেক লাভ করে তো তাই একটু ঝগড়া হলেই সহ্য করতে পারে না। না খেয়ে খেয়ে নিজেকে কষ্ট দেয়। রাতে নাকি অনেক গুলো স্লিপিং ট্যাবলেট খাবে। এরকম কিছু একটা শুনলাম। কি যে বিপদে পড়লাম ছেলেটাকে নিয়ে!
.
আমার কথা শুনে মেয়েটা যেন লাফিয়ে উঠলো!
- হোয়াট! কি বলছেন আপনি?? প্লিজ ভাইয়া ওকে একটু বুঝান! এক্ষুনি উঠে খেতে বলুন। প্লিজ এসব পাগলামী করতে না করুন। প্লিজ ভাইয়া প্লিজ!
- কে আমি? অসম্ভব! ও তো আমার কোনো কথা শুনতেই চায় না। বেশী বুঝাতে গেলে ঝাড়ি মারে! হুদাই ফাপড় লয়!
- প্লিজ ভাইয়া আমার জন্য এতটুকু হেল্প করতে পারবেন না আপনি? ভাইয়া আপনি একটু চেষ্টা করলে অবশ্যই পারবেন। প্লিজ ভাইয়া না করবেন না! আপনি কি চান আমিও ওর মত কষ্ট পাই?
.
এবার আমার মনটা নরম হয়ে গেল। মানবতা বাড়তে শুরু করলো। নরম গলায় বললামঃ
- ইয়ে মানে, আচ্ছা দেখছি কি করা যায়। ওহ হ্যাঁ একটা কথা মনে পড়ে গেলো,বলবো?
- জি জি অবশ্যই বলুন!
- (আমি ইনিয়ে বিনিয়ে বললাম)না মানে সেদিন আপনার পাঠানো বিরিয়ানীটা অনেক মজার ছিলো। নারকেলের নাড়ু গুলোও অনেক টেস্টি! সেই স্বাদটা এখনো যেন মুখে লেগে আছে! যে প্রশংসার প্রাপ্য তার প্রশংসা করতে হয়। সত্যি আপনার হাতে যাদু আছে।
- (মেয়েটি কিছুটা লজ্জা পেয়ে বললো) আরে কি যে বলেন! আমি তো ভালো রাঁধতেই পারি না। আচ্ছা ঠিক আছে। পরের সপ্তাহে আপনার বন্ধুর সাথে দেখা করতে আসার সময় আরো মজা করে বিরিয়ানী রেঁধে আর নাড়ু বানিয়ে নিয়ে আসবো। ভাইয়া আপনি আগে কাইন্ডলি আমাদের ব্যাপারটা একটু দেখুন না প্লিজ!
- (আমি গা ঝাড়া দিয়ে উঠে বললাম) আরে এটা কোনো ব্যাপার হলো! আমি ওকে এক্ষুনি বিছানা থেকে উঠিয়ে খাওয়াচ্ছি! খাবে না কেন? ও পাইছে টা কি? না হয় আপনার জন্য ওর একটু ঝাড়ি শুনলাম, তাতে কি! ওকে আজ খাইয়েই ছাড়বো! আর ওসব উল্টা-পাল্টা ভূত ওর মাথা থেকে নামাবোই নামাবো! ও ২০ মিনিট পরেই খেয়ে উঠে আপনাকে ফোন দিবে। আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন । আপনি শুধু কলটা রিসিভ করে একটু সুন্দর করে কথা বলা বলবেন। ব্যাস!

.
লেখা: কাউসার আহমেদ

Sunday, February 4, 2018

শেখ কামালঃ কিছু ষড়যন্ত্র ও একটি সরল স্বীকারোক্তি






মেজর ডালিমের স্ত্রীকে কিডন্যাপ করে,
ধর্ষণ করেছিল বঙ্গবন্ধুর পুত্র শেখ কামাল.....??
কালে কালে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের উপর যেসব মিথ্যে অভিযোগ দেশময় ছড়িয়ে আছে
তার অন্যতম বাহন ছিল গণমাধ্যম।
এমনকী এই সময়ে এসেও কেউ সত্যি কথাগুলো প্রকাশ করতে চায় না।
পাছে আওয়ামী লীগের সীল লেগে যায় এই ভয়ে। কিন্তু আমার এই নিয়ে কোন
মাথাব্যাথা নাই। জাতির পিতার পরিবারকে
টম এন্ড জেরী কার্টুন বানানো হবে।
কতিপয় স্বার্থবাদী মানুষের জন্য, সেটা আমি মানতে পারি না।
স্বার্থবাদীরা আজ বিপন্ন হওয়ার অপেক্ষায়।
অবশ্য দুনিয়াতে কখনই স্বার্থবাদীরা
টিকে থাকে নি।
শেখ কামাল আর ডলি জহুর
একই নাট্যদলে কাজ করতেন।
প্রতিদিন বিকাল থেকে শুরু হত নাটকের
রিহার্সাল-একটানা চলত রাত
১১টা-১২টা পর্যন্ত।
রিহার্সাল শেষে ডলি জহুর বাসায় ফিরতেন শেখ
কামালের সাথে।
কারণ ডলি জহুর তখন হাতিরপুলে থাকতেন।
ডলি জহুরকে বাসায় পৌছে দিয়ে তারপর
ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারের বাসায়
যেতেন শেখ কামাল।
ডলি জহুরের সাক্ষাতকার থেকে বাদ দেয়া, সেই লাইন গুলি...
ডলি জহুর বলেন
১৯৭৩-৭৪ সালে ঢাকা শহরে রাত
১০টা মানেই অনেক রাত।
রাস্তা একেবারেই ফাঁকা, সেখানে প্রতিদিন কামাল ভাই আমাকে ১১টা-১২টার দিকে বাসায় পৌছে দিতেন।
প্রেসিডেণ্টের
ছেলে হয়েও তার কাছে সবসময় টাকা থাকত
না। এ নিয়ে অনেক ক্ষ্যাপাতাম। শুধু
আমি না ক্যাম্পাসেও তার বন্ধুরা তাকে এই
জন্য ক্ষ্যাপাত। যেদিন কামাল ভাইয়ের কাছে টাকা থাকত না,
সেদিন রাতে হেঁটে যেতাম। যেদিন টাকা থাকত
সেদিন যেতাম রিকশায়। কত রাতের পর রাত উনার সাথে আমি একা বাসায় ফিরেছি
অথচ এক বারের জন্যও আমি তাকে
আমার দিকে বাজে দৃষ্টিতে তাকাতে দেখিনি।
আমি উনার ছোট বোন শেখ রেহানার
বান্ধবী ছিলাম।
ছেলেরা ছোটবোনের বান্ধবীদের সাথে কতরকম দুষ্টামী করে। উনি কোনদিন তাও করেন নি।
ভুল করেও বলেন নি-ডলি
তোর হাতটা দেতো ধরি।
এক কথায় কামাল ভাই ছিলেন
ভাইয়ের মতই ভাই।
শুধু আমি কেন, যেসব মেয়েরাই উনার সাথে মিশত সবাই এইকথা স্বীকার করবেন।
আর এই দেশের মানুষ তাকে নিয়ে কতরকমের অপপ্রচার চালালো।
কামাল ভাই নাকি কার বৌকে
তুলে নিয়ে গেছেন হ্যান ত্যান।
মানুষ এত মিথ্যাবাদী হয় কি করে,
আমি ভেবে পাই না।
স্বার্থ মানুষকে ভিতর-বাহির থেকেই নষ্ট করে দেয়।
তাছাড়া কামাল ভাই ছিলেন প্রেসিডেন্টের ছেলে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে তার জন্য শত শত মেয়ে পাগল। কখনও কোনদিন আমরা তাকে সেসব মেয়েদের পাল্লায় পরতে দেখিনি।
তিনি কি পারতেন না সেসব মেয়েদের
সাথে নোংরামী করতে ??
এখানেই শেষ নয়।
সুলতানা কামালকে ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন
কামাল ভাই।
সুলতানা আপা ছিলেন নামকরা
একজন খেলোয়ার।
বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলাধুলার জন্য
তিনি এক নামে পরিচিত ছিলেন।
অনেক লম্বা আর শক্ত পেটা শরীর।
আমরা উনাকে ভয় পেতাম।
সহজে কেউ সুলতানা আপার কাছে যেতাম না। ছেলেরাও ভয় পেত তাকে। এড়িয়ে চলত।
সেই সুলতানা আপাকে পছন্দ করে বসলেন
কামাল ভাই। আর তার হয়ে সুলতানা আপার
কাছে এই কথাটা বলার দ্বায়িত্ব দেন
আমাকে।
আমি তো ভয়েই শেষ।
না করে দিলাম। কিন্তু কামাল ভাইয়ের
জোরাজোরিতে রাজী হলাম।
কথা দিলাম সুলতানা আপাকে জানাব
যে কামাল ভাই অাপনাকে পছন্দ করে।
কিন্তু দিন যায়, মাস যায় জানানো আর হয় না।
কি করে হবে ??
আমি যতবার সুলতানা আপার কাছে এই
কথা বলতে গিয়েছি ততবারই ভয়ে আমার
গলা শুকিয়ে গেছে।
আমি ভীতু, তেলাপোকা দেখে মরে যাই এসব কত্ত রকমের কথা শুনালো কামাল ভাই।
অবশেষে নিজেই একদিন
সুলতানা আপাকে জানালেন তার মনের কথা।
এবং হলেন প্রত্যাখ্যাত।
সুলতানা আপা বলে দিলেন প্রেম ট্রেম
করতে পারবেন না। এতই যদি ভাল
লাগে তবে যেন বাসায় লোক পাঠায়।
তাই করেছিলেন কামাল ভাই।
এবার ভেবে দেখুন,
যে মানুষ একটা মেয়েকে ভয় পেয়ে তার
সামনে দাঁড়াতে পারে না, যে মানুষ তার
ভালোবাসার কথা জানাতে আড়াই বছর
সময় নেয়, সে মানুষ কি করে অন্যের বউ
তুলে নিল ???
বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর দেশের মানুষকে শান্ত রাখতে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের প্রতি ঘৃনার জন্ম দিতে সব
রকমের চেষ্টা চালিয়েছে ঘাতকের দল।
কামাল ভাইও সেই অপচেষ্টার শিকার।
৫ টাকার বাদাম কিনে যে ছেলে তার ছোট বোন আর তার বান্ধবীদের খুশি করতে পারত না,
তার নামেই ছড়ানো হয়েছে ব্যাংক লুটের
কিচ্ছা-কাহিনী।
আমার কথা হল কামাল ভাই যদি এত বড়ই
লুটেরা হবে তাহলে সেসব টাকা গেল
কই ???
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুর
বাসায় কিছুই পাওয়া যায় নি।
পাওয়া যায় নি উল্লেখ করার মত তেমন কোন ব্যাংক একাউন্ট।
তাহলে ব্যাংক লুটের টাকা কোথায় গেল ??
-জয় বাংলা,
-জয় বঙ্গবন্ধু।
বুলবুল আহমেদ (ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)