Tuesday, July 26, 2016

শান্তির ঘুম আনতে পারে যে অ্যাপগুলো

ঘুম আসছে না? আপনার স্মার্টফোনটিতে কয়েকটি অ্যাপ ডাউনলোড করে রাখতে পারেন, যা আপনাকে ভালো ঘুমাতে সহায়তা করবে। প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের দৈনিক আট ঘণ্টা করে ঘুমানো দরকার—এ কথা সবারই জানা। কিন্তু ঠিকমতো ঘুম না হলে অনেক স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। বর্তমান কর্মব্যস্ত জীবনের কথা বিবেচনায় অনেকেই ঠিকমতো নিয়ম করে ঘুমাতে পারেন না।


আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে ঘুমের বিষয়টিকে হিসাবের মধ্যে আনতে পারেন এবং নিয়মিত নিয়ম করে যথেষ্ট ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। গুগল প্লে স্টোরে কয়েকটি অ্যাপ আপনাকে সাহায্য করতে পারে। এ অ্যাপগুলোর মধ্যে রয়েছে স্লিপ সাইকেল, স্লিপ অ্যাজ অ্যান্ড্রয়েড, স্লিপবট, বেডইট স্লিপ ট্র্যাকার ও পিজ।
স্লিপ সাইকেল অ্যাপটিতে যে টাইম ক্যালকুলেটর আছে, তা ঘুমের পর্যায়কে ঠিকমতো ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনতে পারে। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণার হিসাবের ভিত্তিতে এই ক্যালকুলেটর তৈরি করা হয়েছে। ঘুমানোর ও জাগানোর ঠিক সময় নির্ধারণ করতে পারে এটি।
ডাউনলোডের লিংক:
https://play. google. com/store/apps/details? id=com. blogspot. novalabsandroid. sleepeasy&hl=en


স্লিপ অ্যাজ অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপটি ঘুমের বিষয়টি নজরদারি করার জন্য ভালো একটি অ্যাপ। ঘুমের অভ্যাসের লেখচিত্র তৈরি করে দেখাতে পারে এটি। ঘুমের মধ্যে কথা বলা বা নাক ডাকার বিষয়টিও রেকর্ড রাখতে পারে এটি। এ ছাড়া ঘুমের সময় হিসাব করে ঘুম বিষয়ে বিশেষ নির্দেশ দিতে পারে এটি।
ডাউনলোডের লিংক:
https://play. google. com/store/apps/details? id=com. urbandroid. sleep&hl=en

স্লিপবট ঘুম নজরদারি করার ও ঘুমের ধরন বোঝার জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ। এটি ঘুমের ভেতর কথা বলা বা নাক ডাকার মতো বিষয়গুলো ধরে দিতে পারে। ঘুমিয়ে পড়া ও জেগে ওঠার সময় ঠিক করে দেওয়া যায় এ অ্যাপ দিয়ে।
ডাউনলোডের লিংক:
https://play. google. com/store/apps/details? id=com. lslk. sleepbot&hl=en
ঘুমের সময় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিবেচনায় ধরে ‘স্লিপস্কোর’ তৈরি করে বেডইট স্লিপ ট্র্যাকার। সবুজ বাতি দেখে ঘুম ভালো হয়েছে কি না, তা বোঝা যায়। শ্বাসপ্রশ্বাস, হৃৎপিণ্ডের গতি, ঘুমের পর্যায় বিশ্লেষণ করা যায় অ্যাপটি দিয়ে।
ডাউনলোডের লিংক:
https://play. google. com/store/apps/details? id=com. beddit. beddit&hl=en
শান্তিমতো ঘুমাতে সাহায্য করে পিজ। এতে সংগীত, মনোরম শব্দ, সাউন্ড ইফেক্ট ও বাইন্যাচারাল বিট যুক্ত আছে। ঘুমানোর আগে সময় নির্ধারণ করে দিলে বিশেষ সাউন্ডট্র্যাক সৃষ্টি করে ঘুম পাড়িয়ে দিতে পারে অ্যাপটি।
ডাউনলোডের লিংক:
https://play. google. com/store/apps/details? id=com. pzizz. android&hl=en
যাঁরা ঘুমানোর আগে একটু প্রশান্তি খুঁজতে চান, তাঁরা রেইন সাউন্ড, রিলাক্স মেলোডি, ন্যাচার সাউন্ড প্রভৃতি অ্যাপ ডাউনলোড করে তা চালিয়ে ঘুমাতে পারেন।
অ্যাপ শান্তির ঘুম এনে দেবে।
(সূত্র- প্রথম আলো, জুলাই ২৬, ২০১৬) 

Tuesday, July 5, 2016

দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি হোক: শিবলী নোমান

গুলশান হামলার ঘোষিত শোকপর্ব শেষ হয় নি এখনো। মনের ক্ষত কতোটা জাগ্রত, সে না হয় বাদই দিলাম। অথচ এরই মধ্যে নানামুখী বিশ্লেষণের ভাণ্ডার আমরা খুলে বসেছি। নিজেরাই তদন্তকারী থেকে শুরু করে বিচারকও হয়ে উঠেছি। আমাদের গপ্পের গরু গাছে নাকি গোয়ালে সে খেয়াল নেই। এমন একটি ঘটনা, যা একটি বড় পরিকল্পনার অংশ, তার চুলচেরা তদন্ত ছাড়াই যখন আমরা পরস্পরবিরোধী তথ্যের মধ্যে একটির পক্ষে অন্ধ অবস্থান নিয়ে ফেলি, তখন কানাগলি ছাড়া সামনে যাবার আর কোনো পথ থাকে না। ঘটনার পর চাক্ষুস বিবরণ এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু সেই বিবরণটি কার এবং কী উদ্দেশ্যে, সেটিও ভেবে দেখা জরুরি। গুলশানে সে রাতের ঘটনায় কিছু মিসিং লিংক আছে। সেগুলো নিয়ে তদন্তকারীরা নিশ্চয় সচেতন থাকবেন। কিন্তু দুটো বিবরণ একটু আলাদা করে আলোচনা করা জরুরি। নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক, যিনি নিজেকে জিম্মি ছিলেন বলে জানিয়েছেন, তার পক্ষের বিবরণটা অনেকটা এমন, জঙ্গিরা সুরা-কলেমা পড়তে পারে কি না এবং মাথায় হিজাব আছে কি না, সেই যোগ্যতা পরখ করে করে খুনের ফায়সালা করে। দ্বিতীয় বিবরণটা আমরা পাই হোলি আর্টিজানের কর্মীর বরাতে। সেই বিবরণ এমন, অস্ত্রধারীরা বাংলাদেশের কোনো নাগরিককে মারা হবে না বলে জানিয়েছিলো। তারা বলেছিলো, বিদেশিদের মারতে তারা এসেছে। প্রথম বিবরণটা চাউরের পর এই ঘটনা আইএস-এর এবং তারা মুসলিমদের মারতে চায় নি বলে সাধারণ্যে ধারণা তৈরি হতেই পারে। এই বিবরণের যে প্রভাব তা জঙ্গি হামলা সংক্রান্ত সরলীকৃত ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। পরের বিবরণে বোঝা যায়, তাদের মূল লক্ষ্য কোনো ধর্ম নয়, ছিলো বিদেশি নাগরিকরা। প্রথম বিবরণটা নিয়ে আপাতত কিছু বলছি না। কারণ ওই বিবরণ যে পক্ষ থেকে এসেছে, তাকে নিয়ে ইতোমধ্যে কিছু প্রশ্ন উঠেছে। আমরা বরং পরের বিবরণটাতেই একটু নজর দিই। তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম, আইএস শুধু বিদেশি নাগরিকদেরকেই হত্যা করার জন্য এই পরিকল্পনা করেছিলো। তাহলে সঙ্গে সঙ্গে এই প্রশ্নটাও উঠে আসবে যে, বাংলাদেশে তাদের আস্তানা তৈরি করতে বিদেশি হত্যা এতো জরুরি কেন হয়ে গেলো? তাও প্রায় এক বছর ধরে ওরা বেছে বেছে শুধু ইটালি আর জাপানের নাগরিককেই পেলো? এই প্রশ্নটা আমার ছিলো গুলশানের ঘটনারও আগে। তাভেল্লা চেজারের পর যখন রংপুরে কুনিও হোশিকে খুন করে দিনাজপুরে আবার সেই ইটালিয়ান ধর্মযাজকের ওপর হামলা হলো। প্রশ্নটা ঠিক আমার মাথায় নয়, এসেছিলো, ওই ধর্মযাজকের এক স্বদেশি সহকর্মীর মাথায়। তিনি আমাকে বলেছিলেন, ইটালির সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ অনেক পুরনো। কেন তারা আমাদেরকে টার্গেট করলো? এরপরই প্রশ্নটা আমার মাথায়ও ঘুরছিলো। যদিও সেই সময় বিষয়টাকে স্রেফ কাকতাল বলে এড়িয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু এবার আর মোটেই সেপথে যাওয়া যাচ্ছে না। ইটালির সঙ্গে আমাদের তেমন একটা দহরম মহরম টাইপ কূটনৈতিক সম্পর্ক কখনো ছিলো বলে শুনি নি। কিন্তু ব্যবসা-বাণিজ্য এবং রেমিটেন্সের ক্ষেত্রে এই রাষ্ট্রটি বাংলাদেশের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আর জাপান তো আমাদের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী। শুধু তাই নয়, পদ্মাসেতু নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে যখন বিশ্বব্যাংক মুখ ফেরালো, জাইকা তখনও বাংলাদেশের পক্ষেই কাজ করেছে। মেট্রোরেলের মতো উন্নয়ন তৎপরতায় তারা সম্পৃক্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ যে চারটি রাষ্ট্রকে ঘিরে নিজের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সাজাচ্ছে, ইটালি ও জাপান তাদের মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশে এদের জন্য পৃথক অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির কথাও চলছে। এমন একটা পরিস্থিতিতে গত এক বছর ধরে আইএস বাংলাদেশে ইটালি কিংবা জাপানের নাগরিককে হত্যা করে কী বার্তা দিতে চায়? গুলশানের ঘটনার পর জাইকা এদেশ থেকে প্রত্যাহার করে নিতে পারে বলে কয়েকটি গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। ইটালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের ওপর নজরদারি বেড়েছে বলেও প্রকাশিত হয়েছে। খুব সহজ একটি সমীকরণ টেনে নেয়া মোটেই অসমীচীন হবে না যে, তাহলে এই হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিলো বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা। এমন একটি পরিকল্পনা করে আখেরে আইএস-এর ফায়দা কী, তা বোধগম্য না হলেও এই মুহূর্তে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করলে আখেরে লাভ কার কার, সেই তালিকাটি এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। আমার বিবেচনায় এই তালিকায়, দেশের ভেতরের গোষ্ঠী বা বাইরের বিশেষ শক্তি দুটোই যার যার স্বার্থ বিবেচনায় স্থান পাবে। সারাবিশ্বেই এখন ভাঙনের পর্ব চলছে। মানুষগুলো বড় থেকে কেন জানি স্বেচ্ছায় ছোট হতে চাইছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়া এই তালিকায় শেষ সংযোজন। দীর্ঘসময় ধরে এশিয়ার উদীয়মান শক্তিগুলো যেভাবে আঞ্চলিক সংহতি তৈরির জন্য কাজ করেছে, সেগুলো নিয়েও আপাতত কিছু সংশয় তৈরি হয়েছে। কিন্তু তার চেয়ে বড় সত্য হলো, এ অঞ্চলে বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান এমন এক জায়গায়, যেখানে হানা দেয়া সম্ভব হলে পুরো অঞ্চলটাকেই টালমাটাল করে দেয়া সম্ভব। কাজেই বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে অচল করে দেয়ার এক অভিন্ন নীলনকশা নিয়ে কয়েকটি ‘কমন ইন্টারেস্টে’ এক হওয়া শক্তিগুলোর তৎপরতায় বাংলাদেশে যে সন্ত্রাসবাদিতার দেখা মিলছে, তার পরিণতি ভোগ করতে হবে এ অঞ্চলের ছোট-বড় সব রাষ্ট্রকেই। আর সে কারণেই এই মুহূর্তে সন্ত্রাসবাদ কিংবা নিরাপত্তা ইস্যুতে অন্তত দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। এখানে সার্কের মতো একটি ফোরাম রয়েছে। খুব সহজেই নিজেদের নিরাপত্তা প্রশ্নে এখানে তাই একটি কার্যকর জোট গড়ে তোলা যেতেই পারে। এ অঞ্চলের রাষ্ট্রনায়কদের সত্যিকার অর্থেই ‘পূবে তাকাও’ ঝান্ডা উড়ানো, অথবা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দীর্ঘমেয়াদী নাকগলানো- এই দুয়ের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হবে এখনই। নাহলে সামনে সবার জন্যই অভিন্ন বিপদ।

Sunday, July 3, 2016

আসলেই আতঙ্কের: Rafiuddin Ahmed

আমি আমার বিদেশী বন্ধুদের সব সময় বলি বাংলাদেশে প্রবাসীরা দুই বার কাঁদে। একবার যখন তারা সেখানে যাবার প্ল্যান করে (ভয়ে, না জানি কি হয় কারন তাদের কাছে বাংলাদেশ একটি আতঙ্কের নাম, খুন খারাবির দেশ)। আরেকবার কাঁদে যখন তারা তাদের কাজ শেষে দেশে থেকে ফিরে আসে। আসার সময় কাঁদে কারন তারা ইতিমধ্যে দেখে গেছে বাংলাদেশের মানুষেরা কি পরিমাণ বিদেশীদের শ্রদ্ধা করে, কি পরিমাণ সন্মান করে, কি পরিমাণ ভালবাসে, কি পরিমাণ অতিথিপরায়ণ। আমার মনে আছে ছোট বেলায় আমাদের বাসার পাশে খ্রিস্টিয়ান মিশনারি ছিল যেখানে অনেক সাদা চামড়ার বিদেশী আসতেন। আমরা ওদের দিকে, ওদের বাচ্চাদের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকতাম। এত সুন্দর মানুষ ও হয়!
কিন্তু আজ এদের কি বলব। দেশে বিগত ৫, ৭ বছর আগ পর্যন্ত যত মারামারি হয়েছে খুব কমি দেখা গেছে বিদেশিদের গায়ে হাত দিতে। কারণ তারা অতিথি। আমাদের দেশ অতিথিদের কে শ্রদ্ধার, সন্মানের পাত্র হিসেবে দেখতে শিখিয়েছে। আমার পিএইচডি সুপারভাইজার সহ গত বছর প্রায় ১২-১৪ জন অস্ট্রেলিয়া থেকে আমার সাথে বাংলাদেশে গেছেন, আমার সাথে আমার বাসায় এখানে ওখানে গেছেন। তাদের ও দেখলাম একই মত। ওরা বলেছিল রাফি তোমার দেশের মানুষেরা আর্থিক ভাবে গরীব কিন্তু মনের দিক দিয়ে আসলেই অনেক ধনী। কিন্তু আজ ওদের কে আমি কি বলব! বা আমরা যারা দেশের জন্য কিছু করতে চাই তাদের কে কি বলব? কেউ কি জানেন?
পেপার এ দেখলাম সন্ত্রাসীরা নাকি সবাই বাংলাদেশি। এরা নাকি ঢাকার নামি দামি স্কুল, ভার্সিটির ছাত্র। প্রথমেই শিক্ষক হিসেবে এটা মেনে নীতে পারছিনা। আমাদের কি শিক্ষা দেয়ায় গলদ আছে? নাকি এই গলদ তৈরির কারিগর অন্য কেউ? কই আমরা তো কখনই বলিনা কারও উপর আক্রমণ কর। তাকে মেরে ফেল। তাহলে সমস্যা কোথায়? আমাদের সুন্দর শান্তির ইসলাম ধর্মেও এটা কোথাও বলা নাই। আছে কি?
আমার কাছে মনে হয় সমস্যা অন্যত্র। কারণ যারা এই রকম অন্যায় কাজে লিপ্ত হয় তারা নিজ থেকে এইসব করেনা। এদের কে কেউ খুঁজে বের করে তারপর ব্যাবহার করে। এদেরকে কেন বের করে? কারণ এরা দিন দুনিয়ার উপর অনেক হতাশ। ইদানিং ফেসবুক খুললেই দেখি তরুণ প্রজন্ম খালি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়-- ফীলিং হতাশ। এই সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। আমার অস্ট্রেলিয়ার টাইম যখন সকাল ৯ টা তখন দেখি বাংলাদেশের অনেকে অনলাইনে একটিভ। এরা রাতে ঘুমায়না। ধীরে ধীরে এরা হতাশাগ্রস্ত এক সময় নেশা গ্রস্ত মানুষে পরিণত হয়। সমাজ পরিবর্তন হচ্ছেরে ভাই। আমার দীর্ঘ দিনের সোশ্যাল ট্রেন্ড এনালাইসিস থেকে বলছি। খেয়াল করে দেখেন হতাশা কমানোর ডাক্তারের কাছে মানুষের তীব্র লাইন। এনার্জি ড্রিঙ্ক কম্পানী Redbull কোম্পানির ও বিশাল ব্যাবসা। ডিপ্রেসানের মানুষ ও অনেক সর্বত্র। ঘুমের ট্যাবলেটও প্রচুর বিক্রি হয়। সাথে সাথে বেড়ে যাচ্ছে সুইসাইডাল টেন্ডেন্সি!
''হতাশ'' মানুষ এক দিনে হয়না। হতাশ হবার অনেক কারন। পারিবারিক বন্ধনে ঝামেলা, ব্রোকেন ফ্যামিলি, খারাপ মানুষের সাথে উঠা বসা, সামাজিক মাধ্যমে তীব্র আসক্তি ধীরে ধীরে তাকে নেশার (আগে ছিল ফেন্সিডিল আর এখন ইয়াবা) দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কাজেই এগুলো খেয়াল করতে হবে সবাইকে। মানুষ যেহেতু মানুষ তারা হতাশ হবেই। কিন্তু দরকার কাউন্সেলিং। যেমন অস্ট্রেলিয়ায় দেখি এই রকম কাউন্সেলিং দেবার অনেক ওয়েবসাইট আছে। আমাদের দেশে আছে কিনা আমি জানিনা। আমাদের বাবা মায়েরাও জানে না তাদের সন্তান রাত জেগে আসলেই কি করছে। কার সাথে সারাদিন কথা বলছে। দুনিয়ায় ফ্রিক মানুষের অভাব নাইরে ভাই! আপনার আদরের সন্তানের দিকে খেয়াল করুন।ওরা হয়ত বলবে আমার প্রাইভেসি কই? প্রাইভেসি দেন কিন্তু সাথে সাথে খেয়াল ও রাখুন।
গুলি করে খুন করা আর জবাই করে খুন করার মধ্যে তীব্র ফারাক। একটা ট্রিগার টিপলেই কিন্তু মানুষ মরে। কিন্তু যারা জবাই করে মানুষ মারে (জবাই করতে অনেক মানসিক জোর লাগে, কারন এতে অনেক ব্লাড শেড হয়) তাদের কি পরিমাণ ব্রেইন ওয়াশ করে মানুষ রুপি একটা হায়েনায় রূপান্তর করা হয়েছে ভেবে দেখেছেন? এটা শুধু মাত্র দিন দুনিয়ার উপর হতাশ মানুষের পক্ষেই করা সম্ভব। আর ওদেরকে এই সব কাজের জন্য সামনে একটা মুলা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। সেটা হচ্ছে ধর্ম। ধর্ম প্রতিষ্ঠায় মরলে সরাসরি বেহেস্ত। সাথে অনেক হুর পরি। কিন্তু ওরা জানেনা ওরা আসলে খুনি। ওদেরকে বানানো ও হচ্ছে খুনি হিসেবে। আচ্ছা, মানুষকে জিম্মি করে মেরে ফেলা কি ক্রুসেড? হায়রে বোকা মানুষ?
আমাদের এখন অনেক করনীয়। আপনার আসে পাশে যদি এমন কাউকে দেখেন যার চাল চলন সন্দেহের সাথে সাথে নজর রাখুন। আইন রক্ষা বাহিনী একা কোন দিন কোন দেশে এই সব দমন করতে পারেনি, পারবেনা। আমাদের ও তাদের সাহায্য করতে হবে। এই দেশে (অস্ট্রেলিয়ায়) যেমন আছে একটা টোল ফ্রি ক্রাইম স্টপ নাম্বার। নাগরিকেরা সন্দেহ জনক কিছু দেখলেই কল করে। আমাদের দেশেও এমন কোন হেল্প লাইন চালু করা যায়। সরকারকে অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে, সবাইকে একযোগে আমাদের সন্তানদের কে রক্ষা করতে হবে। সচেতন নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে কোন অন্যায়, দুর্নীতি দেখলে সাথে সাথে ওদের জানান। সামাজিক মাধ্যমে দিয়ে দিন। পারলে ফেসবুকে লাইভ হয়ে যান।
হতাশ মানুষ ভালবাসা চায়। আমি মনে করি কেউ অনেক ভালবাসা পেলে কোনদিনই হতাশ হতে পারেনা। কোন রকমের জিঘাংসায় নেমে যেতে পারেনা। ভালবাসুন, প্রাণ খুলে হাসুন। দেখবেন আপনার পক্ষে হতাশ হওয়া অনেক কঠিন। আমি এটা মেনে চলি। মন খারাপ হলেই হাঁসির কিছু দেখি সেটা মুভি হোক, ইউটিউব হোক।সমাজ যত ভালবাসাহীন হবে, যত আমরা মানুষ থেকে দূরে সরে যাব মানুষ ততই অমানুষ হয়ে যাবে, দেখবেন।
কাজেই প্রিয় বাবা মায়েরা, আপনার বাচ্চাদেরকে সময় দিন, তাদের নিয়ে ঘুরতে যান, তাদেরকে সামাজিক জীব বানান, সহনশীল হতে শেখান। মনে রাখবেন ওরা কিন্তু ভালবাসার কাঙ্গাল। ওদেরকে যত ভালবাসায় অভুক্ত রাখবেন ওরা ততই বিপদজনক হয়ে উঠবে। ওদেরকে মানুষ বানান, মানুষ মারার কারিগর না।
আর ধর্মেও তো বলা আছে হতাশ হইওনা যদি মুমিন হও। কাজেই মুমিন হন, হতাশ না, খুনি না।

Saturday, July 2, 2016

Night of Power, Night of Value, Night of Destiny-LAILATUL QAD'R

Laylat al-Qadr
Laylat-al-qadr.jpg
Reading Qur'an is one of the key observances of the Qadr night.
Official nameليلة القدر (Night of Decree)
Also calledNight of Power, Night of Value, Night of Destiny, or Night of Measure
Observed byMuslims
SignificanceNight the Quran was revealed;
Angels descend to the earth and the annual decree is revealed to them;
Better than 1000 months of worship
ObservancesNight prayers, ReadingQuran, Making Dua, DoingDhikr

Friday, July 1, 2016

আমাদের গর্ব, আমাদের পলান সরকার।

এই মানুষটাকে স্যালুট.........
রাজশাহীর পলান সরকার।
রোজ ২০ -২৫ কিলোমিটার হেঁটে বিনামূল্যে সবাইকে বই বিলি করেন। পড়া হলে আবার ফেরত নিয়ে নেন। ৩৫ বছর ধরে অজ-পাড়াগাঁয়ে এভাবে তিনি নিরবে জ্ঞানের আলো জ্বালিয়ে চলছেন।
তাই পলান সরকার নামটি শুনলেই মাথা নত হয়ে আসে। তিনি একাই একটি গণগ্রন্থাগার।
স্যালুট -পলান সরকার।