আমার রুমমেট প্রেম করে, সে এক ঐতিহাসিক প্রেম! দিনে ১০ মিনিট ভালো থাকলে ২৩ ঘন্টা ৫০ মিনিট লেগে থাকে সাইক্লোন লেভেলের ঝগড়া! মানবতার খাতিরে আমাকেই দু জনের ঝগড়া মিটমাট করে দিতে হয়। আমার ভিতরে আবার মানবতা বেশি!
.
একদিন মোবাইলে যথারীতি লুতুপুতু রোমান্স থেকে হুট করেই দুজনের মধ্যে শিলা বৃষ্টির মত পটাশ পটাশ ঝগড়া শুরু হলো। দুজনই খানিকক্ষণ চিল্লাপাল্লা করে ঠাস ঠাস করে ফোন রেখে দিলো! রুমমেট আমারে দুঃখভারাক্রান্ত হইয়া বলিলো, "দোস্ত আমি তো শ্যাষ! আজকের ঝামেলা একটু বেশী প্যাঁচায়া গেছে। আমারে বাঁচা!"
আমি গম্ভীর একটা ভাব নিয়া বলিলাম, "ধুর হ্লা! প্রেম করিস তোরা, মজাও লস তোরা, আর প্যাঁচে পড়লে আমি? যাহ পারুম না!"
বন্ধু বলিলো, "দোস্ত , একটু দেখ না প্লিজ! বিকেলে তোরে মোগলাই খাওয়ামু। তুই না ব্ল্যাক সিগ্রেট পছন্দ করস? খাড়া এক্ষুনি এক প্যাকেট আনতেসি..."
.
বন্ধুর কথা শুনে আমার মন একটু নরম হলো। মানবতা বেড়ে গেলো তরতর করে। বন্ধুরে রে বললাম, "কি যে মুশকিলে ফালাইলি! এদিকে তোর মন খারাপটা ও আমার ভালো লাগে না। কিন্তু খবরদার আর কখনো ঝগড়া করবি না! আচ্ছা এবারই কিন্তু শেষ! নেক্সট টাইম কিন্তু এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারবি না! রুমমেট ঘাড় বাঁকিয়ে সম্মতি দিলো। আমি বললাম, আচ্ছা এক কাজ কর ফোনটা অফ করে বাইরে গিয়ে সিগ্রেট নিয়ে আয়। আর আমি এদিকে দেখি কি করা যায়"
রুমমেট আমার কথা শুনে বাধ্য বালকের মত মোবাইলের সুইচ অফ করে সিগারেট আনতে দোকানের দিকে চলে গেলো। আমি তখন আমার নিজের ফোন থেকে ৬০ পয়সা খরচ করিয়া ওর গার্লফ্রেন্ডের নাম্বারে একখানা মেসেজ প্রেরণ করিলাম-
"কি ব্যাপার এসব কি শুরু করেছেন আপনারা? এইভাবে ঝগড়া করে আমার বন্ধুটাকে না খাইয়ে রাখবেন? বেচারা না খেয়ে শুয়ে শুয়ে কাঁদতেছে!"
মেসেজ টা পাওয়া মাত্র আমার রুমমেটের গার্লফ্রেন্ড ওর নাম্বারে ফোন দেয়। কিন্তু ওর ফোন তো বন্ধ করায়া রাখসি। মেয়েটি ওর নাম্বার বন্ধ পেয়ে আমার নাম্বারে কল দিলোঃ
- হ্যালো ভাইয়া?
- হুম বলেন।
- ওর ফোন বন্ধ কেন? ও কোথায়?
- কোথায় আবার! ওই যে না খেয়ে ফোন বন্ধ করে পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে। ( ডাহা মিছা কথা! অনেক আগেই দুজন খেয়ে টেয়ে ঢেঁকুর তুলসি....) আসলে ছেলেটা আপনাকে অনেক লাভ করে তো তাই একটু ঝগড়া হলেই সহ্য করতে পারে না। না খেয়ে খেয়ে নিজেকে কষ্ট দেয়। রাতে নাকি অনেক গুলো স্লিপিং ট্যাবলেট খাবে। এরকম কিছু একটা শুনলাম। কি যে বিপদে পড়লাম ছেলেটাকে নিয়ে!
.
আমার কথা শুনে মেয়েটা যেন লাফিয়ে উঠলো!
- হোয়াট! কি বলছেন আপনি?? প্লিজ ভাইয়া ওকে একটু বুঝান! এক্ষুনি উঠে খেতে বলুন। প্লিজ এসব পাগলামী করতে না করুন। প্লিজ ভাইয়া প্লিজ!
- কে আমি? অসম্ভব! ও তো আমার কোনো কথা শুনতেই চায় না। বেশী বুঝাতে গেলে ঝাড়ি মারে! হুদাই ফাপড় লয়!
- প্লিজ ভাইয়া আমার জন্য এতটুকু হেল্প করতে পারবেন না আপনি? ভাইয়া আপনি একটু চেষ্টা করলে অবশ্যই পারবেন। প্লিজ ভাইয়া না করবেন না! আপনি কি চান আমিও ওর মত কষ্ট পাই?
.
এবার আমার মনটা নরম হয়ে গেল। মানবতা বাড়তে শুরু করলো। নরম গলায় বললামঃ
- ইয়ে মানে, আচ্ছা দেখছি কি করা যায়। ওহ হ্যাঁ একটা কথা মনে পড়ে গেলো,বলবো?
- জি জি অবশ্যই বলুন!
- (আমি ইনিয়ে বিনিয়ে বললাম)না মানে সেদিন আপনার পাঠানো বিরিয়ানীটা অনেক মজার ছিলো। নারকেলের নাড়ু গুলোও অনেক টেস্টি! সেই স্বাদটা এখনো যেন মুখে লেগে আছে! যে প্রশংসার প্রাপ্য তার প্রশংসা করতে হয়। সত্যি আপনার হাতে যাদু আছে।
- (মেয়েটি কিছুটা লজ্জা পেয়ে বললো) আরে কি যে বলেন! আমি তো ভালো রাঁধতেই পারি না। আচ্ছা ঠিক আছে। পরের সপ্তাহে আপনার বন্ধুর সাথে দেখা করতে আসার সময় আরো মজা করে বিরিয়ানী রেঁধে আর নাড়ু বানিয়ে নিয়ে আসবো। ভাইয়া আপনি আগে কাইন্ডলি আমাদের ব্যাপারটা একটু দেখুন না প্লিজ!
- (আমি গা ঝাড়া দিয়ে উঠে বললাম) আরে এটা কোনো ব্যাপার হলো! আমি ওকে এক্ষুনি বিছানা থেকে উঠিয়ে খাওয়াচ্ছি! খাবে না কেন? ও পাইছে টা কি? না হয় আপনার জন্য ওর একটু ঝাড়ি শুনলাম, তাতে কি! ওকে আজ খাইয়েই ছাড়বো! আর ওসব উল্টা-পাল্টা ভূত ওর মাথা থেকে নামাবোই নামাবো! ও ২০ মিনিট পরেই খেয়ে উঠে আপনাকে ফোন দিবে। আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন । আপনি শুধু কলটা রিসিভ করে একটু সুন্দর করে কথা বলা বলবেন। ব্যাস!
.
লেখা: কাউসার আহমেদ
.
একদিন মোবাইলে যথারীতি লুতুপুতু রোমান্স থেকে হুট করেই দুজনের মধ্যে শিলা বৃষ্টির মত পটাশ পটাশ ঝগড়া শুরু হলো। দুজনই খানিকক্ষণ চিল্লাপাল্লা করে ঠাস ঠাস করে ফোন রেখে দিলো! রুমমেট আমারে দুঃখভারাক্রান্ত হইয়া বলিলো, "দোস্ত আমি তো শ্যাষ! আজকের ঝামেলা একটু বেশী প্যাঁচায়া গেছে। আমারে বাঁচা!"
আমি গম্ভীর একটা ভাব নিয়া বলিলাম, "ধুর হ্লা! প্রেম করিস তোরা, মজাও লস তোরা, আর প্যাঁচে পড়লে আমি? যাহ পারুম না!"
বন্ধু বলিলো, "দোস্ত , একটু দেখ না প্লিজ! বিকেলে তোরে মোগলাই খাওয়ামু। তুই না ব্ল্যাক সিগ্রেট পছন্দ করস? খাড়া এক্ষুনি এক প্যাকেট আনতেসি..."
.
বন্ধুর কথা শুনে আমার মন একটু নরম হলো। মানবতা বেড়ে গেলো তরতর করে। বন্ধুরে রে বললাম, "কি যে মুশকিলে ফালাইলি! এদিকে তোর মন খারাপটা ও আমার ভালো লাগে না। কিন্তু খবরদার আর কখনো ঝগড়া করবি না! আচ্ছা এবারই কিন্তু শেষ! নেক্সট টাইম কিন্তু এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারবি না! রুমমেট ঘাড় বাঁকিয়ে সম্মতি দিলো। আমি বললাম, আচ্ছা এক কাজ কর ফোনটা অফ করে বাইরে গিয়ে সিগ্রেট নিয়ে আয়। আর আমি এদিকে দেখি কি করা যায়"
রুমমেট আমার কথা শুনে বাধ্য বালকের মত মোবাইলের সুইচ অফ করে সিগারেট আনতে দোকানের দিকে চলে গেলো। আমি তখন আমার নিজের ফোন থেকে ৬০ পয়সা খরচ করিয়া ওর গার্লফ্রেন্ডের নাম্বারে একখানা মেসেজ প্রেরণ করিলাম-
"কি ব্যাপার এসব কি শুরু করেছেন আপনারা? এইভাবে ঝগড়া করে আমার বন্ধুটাকে না খাইয়ে রাখবেন? বেচারা না খেয়ে শুয়ে শুয়ে কাঁদতেছে!"
মেসেজ টা পাওয়া মাত্র আমার রুমমেটের গার্লফ্রেন্ড ওর নাম্বারে ফোন দেয়। কিন্তু ওর ফোন তো বন্ধ করায়া রাখসি। মেয়েটি ওর নাম্বার বন্ধ পেয়ে আমার নাম্বারে কল দিলোঃ
- হ্যালো ভাইয়া?
- হুম বলেন।
- ওর ফোন বন্ধ কেন? ও কোথায়?
- কোথায় আবার! ওই যে না খেয়ে ফোন বন্ধ করে পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে। ( ডাহা মিছা কথা! অনেক আগেই দুজন খেয়ে টেয়ে ঢেঁকুর তুলসি....) আসলে ছেলেটা আপনাকে অনেক লাভ করে তো তাই একটু ঝগড়া হলেই সহ্য করতে পারে না। না খেয়ে খেয়ে নিজেকে কষ্ট দেয়। রাতে নাকি অনেক গুলো স্লিপিং ট্যাবলেট খাবে। এরকম কিছু একটা শুনলাম। কি যে বিপদে পড়লাম ছেলেটাকে নিয়ে!
.
আমার কথা শুনে মেয়েটা যেন লাফিয়ে উঠলো!
- হোয়াট! কি বলছেন আপনি?? প্লিজ ভাইয়া ওকে একটু বুঝান! এক্ষুনি উঠে খেতে বলুন। প্লিজ এসব পাগলামী করতে না করুন। প্লিজ ভাইয়া প্লিজ!
- কে আমি? অসম্ভব! ও তো আমার কোনো কথা শুনতেই চায় না। বেশী বুঝাতে গেলে ঝাড়ি মারে! হুদাই ফাপড় লয়!
- প্লিজ ভাইয়া আমার জন্য এতটুকু হেল্প করতে পারবেন না আপনি? ভাইয়া আপনি একটু চেষ্টা করলে অবশ্যই পারবেন। প্লিজ ভাইয়া না করবেন না! আপনি কি চান আমিও ওর মত কষ্ট পাই?
.
এবার আমার মনটা নরম হয়ে গেল। মানবতা বাড়তে শুরু করলো। নরম গলায় বললামঃ
- ইয়ে মানে, আচ্ছা দেখছি কি করা যায়। ওহ হ্যাঁ একটা কথা মনে পড়ে গেলো,বলবো?
- জি জি অবশ্যই বলুন!
- (আমি ইনিয়ে বিনিয়ে বললাম)না মানে সেদিন আপনার পাঠানো বিরিয়ানীটা অনেক মজার ছিলো। নারকেলের নাড়ু গুলোও অনেক টেস্টি! সেই স্বাদটা এখনো যেন মুখে লেগে আছে! যে প্রশংসার প্রাপ্য তার প্রশংসা করতে হয়। সত্যি আপনার হাতে যাদু আছে।
- (মেয়েটি কিছুটা লজ্জা পেয়ে বললো) আরে কি যে বলেন! আমি তো ভালো রাঁধতেই পারি না। আচ্ছা ঠিক আছে। পরের সপ্তাহে আপনার বন্ধুর সাথে দেখা করতে আসার সময় আরো মজা করে বিরিয়ানী রেঁধে আর নাড়ু বানিয়ে নিয়ে আসবো। ভাইয়া আপনি আগে কাইন্ডলি আমাদের ব্যাপারটা একটু দেখুন না প্লিজ!
- (আমি গা ঝাড়া দিয়ে উঠে বললাম) আরে এটা কোনো ব্যাপার হলো! আমি ওকে এক্ষুনি বিছানা থেকে উঠিয়ে খাওয়াচ্ছি! খাবে না কেন? ও পাইছে টা কি? না হয় আপনার জন্য ওর একটু ঝাড়ি শুনলাম, তাতে কি! ওকে আজ খাইয়েই ছাড়বো! আর ওসব উল্টা-পাল্টা ভূত ওর মাথা থেকে নামাবোই নামাবো! ও ২০ মিনিট পরেই খেয়ে উঠে আপনাকে ফোন দিবে। আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন । আপনি শুধু কলটা রিসিভ করে একটু সুন্দর করে কথা বলা বলবেন। ব্যাস!
.
লেখা: কাউসার আহমেদ

No comments:
Post a Comment