ছোটবেলা থেকেই রক্ষণশীল পরিবারে আমার বেড়ে ওঠা। কর্মসূত্রে বাবা রুপালী ব্যাংক এর কর্মকর্তা ছিলেন। পরবর্তীতে রাজশাহী সড়ক পরিবহণ গ্রুপেও কাটিয়েছেন বেশ কিছু সময়। অফিসের কাজে বাবাকে বেশিরভাগ সময়ই বাইরে থাকতে হত, তাই বাবার সান্নিধ্য তেমন পাওয়া হয়নি।
আমরা দুই ভাই আর আপার বেড়ে ওঠা মায়ের হাতেই। মা ই আমাদের শিখিয়েছেন পরের মুখাপেক্ষী না হয়ে স্বগৌরবে কিভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে হয়।
পরিবারে আমরা সবাই সবাইকে অনেক বেশি ভালবাসি, কিন্তু বাহ্যিকভাবে কেউ কখনই তা প্রকাশ করিনা, আসলে করা হয়নি। আর আমাদের ভেতরে সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে আমরা কেউ কখনই কারো নিজস্ব বিষয়ে নাক গলানোর চেষ্টা করিনা, যা ই করি না কেন, পাশে থেকে সবসময় উৎসাহ দেয়ার চেষ্টা করি।
বাবার মৃত্যুর পর ভাই ই বলতে গেলে আমার যাবতীয় বিষয়ে খোঁজখবর রাখে। তবে কখনই বলেনি, ''শাহীন, এইটা কর, এটা করিস না, এটা কেন করলি'' ইত্যাদি ইত্যাদি। যখন যা প্রয়োজন, বলার আগেই সে হাজির করেছে আমার সামনে।
বেঁচে থাকার জন্য, কিছু জীবনকে বাঁচানোর জন্য, কিছু মুখে হাসি ফুটানোর জন্য, কিছু স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য, কিছু প্রতিজ্ঞা পূরণের জন্য যে যোগ্যতা-দক্ষতা-কর্মক্ষমতা-ইচ্ছা ইত্যাদির প্রয়োজন, তিলে তিলে তা অর্জনের চেষ্টায় নিমগ্ন আয়েশা বেগম ও মরহুম সাদেক আলীর ছোট ছেলে শাহীন।।
বাবা আজ নেই, মা আছেন- মা'কে নিয়েই তাই সাঁজাতে চাই আমার আগামীর পথচলা। আর এই পথচলায় ছায়ার মত পাশে চাই প্রিয় ভাই ও বোনকে, কেননা তাঁরা আছে বলেই আমি আছি- তাঁরা না থাকলে আমিও থাকতাম না।।।
No comments:
Post a Comment