আজ মাহফুজের বিয়ে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ মাইশাকে চিরকালের জন্য পেতে চলেছে সে। কথাটা ভাবতেই এক অন্যরকম অনুভূতি খেলা করছে মাহফুজের মনে আর মনে পড়ে যাচ্ছে কলেজজীবনের সেই দিনগুলোর কথা।
কলেজে থাকাকালীন খুব লাজুক প্রকৃতির ছেলে ছিল মাহফুজ। মেয়ে বন্ধুদের সাথে সে বরাবরই কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখতো। কলেজে ভর্তির পর তাঁর মূল লক্ষ্যই ছিল ভাল একটি রেজাল্ট করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হউয়া। তাই কোন মেয়ে বন্ধুর সাথে তেমন সখ্য তাঁর কখনই গড়ে ওঠেনি। কিন্তু কিছুদিন যাবার পরই এক মেয়ে তাঁর আলাদাভাবে দৃষ্টি কাঁড়ে।
মেয়েটি, মানে মাইশা বোরখা পড়ত, আপাদমস্তক ধাকা, এমনকি মুখমণ্ডল দেখারও কোন সুযোগ নেই। মাহফুজ মাইশাকে প্রথম দেখেছিল কোন এক সকালে কলেজ প্রাঙ্গনে। এরপর থেকে যতবার মাইশাকে দেখেছে, ততবারই মনে হয়েছে মেয়েটি মাহফুজের কতকালের চেনা, কত কাছের। অথচ তখনও সে তাঁর নামটাও জানে না।
একদিন কোন এক কারণবশত মাইশার সাথে তাঁর ফোন নম্বর আদানপ্রদান হয়। এরপর অল্প অল্প করে কথাবার্তা চলতে থাকে। মাহফুজ যতই মাইশার সাথে কথা বলে, ততই মাইশাকে আপন মনে হয়। এভাবে চলতে চলতে কখনযে এই ভালোলাগা ভালোবাসায় রুপান্তরিত হয়েছে, মাহফুজ তা বুঝতেই পারেনি।
এভাবেই কেটে গেল কলেজের ২ বছর। দুজনেই ভর্তি পরীক্ষা দিল, বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্সও পেল, তবে দুজন আলাদা দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। মাহফুজ-মাইশার ফোনালাপ চলতেই থাকল। এরই মাঝে মাহফুজ মাইশাকে তাঁর ভালোবাসার কথা জানালো, তবে হ্যাঁ বা না- এর কোনটাই মাইশা জানায়নি। এদিকে মাহফুজও ছেড়ে দেবার পাত্র নয়। সে বন্ধুর মতই মাইশার খোঁজ-খবর নিত, পড়াশুনা কেমন হচ্ছে জানার চেষ্টা করত।
সময়ের সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাস্ততা গ্রাস করে দুজনকে। একে অপরের খোঁজখবর নেয়া আসতে আসতে কমতে থাকে। তবুও মাহফুজ আশায় ছিল এই বুঝি মাইশা তাঁকে বলবে, ‘আমিও ভালবাসি তোমায়।’ না, তা কখনো হয়নি। মাইশা কখনই বলেনি সে মাহফুজকে ভালোবাসে। মাহফুজ কখনই মাইশার সুন্দর চেহারাখানি দেখেনি, তবে তাঁর বিশ্বাস ছিল মাইশা ঠিক তাঁর স্বপ্নের রাজকন্যার মতই হবে। মাহফুজ এই আশায় বুক বেধেছিল যে, যদি ভাগ্যে থাকে, তবে সে অবশ্যই মাইশাকে পাবে।
হ্যাঁ, আজ মাহফুজের সেই ভাগ্যপূরণের দিন। কেননা, দীর্ঘ ৮ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে আজ। ভাগ্যের খেলায় দোদুল্যমান এক সম্পর্কের পরিনতি পাবার দিন আজ। ভালোলাগা থেকে ভালোবাসার পূর্ণতা পাবার দিন আজ। মাহফুজের স্বপ্নের সেই রাজকন্যাকে প্রাণভরে দেখার দিন আজ।
মাহফুজ বরযাত্রী নিয়ে মাইশাদের বাসায় গেছে। মৌলভিসাহেব বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারছেন। বিয়ের পূর্বশর্ত- ‘কবুল’ কথাটি মাহফুজ ইতোমধ্যে বলেও ফেলেছে। এখন মাইশার কবুল বলার পালা। মাইশা কবুল বলতে যাবে, ঠিক তখনই মাহফুজের মনে হল কে যেন তাঁকে ডাকছে। চোখ খুলে দেখে তাঁর মা, মাহফুজ বুঝল এতক্ষন যা ঘটেছে তাঁর সবই স্বপ্নে।।
মাইশাকে বিয়ের স্বপ্ন- মাহফুজের তাই স্বপ্নই থেকে গেল।
(শাহীন হোসেন)
(শাহীন হোসেন)

No comments:
Post a Comment