Tuesday, July 26, 2016

শান্তির ঘুম আনতে পারে যে অ্যাপগুলো

ঘুম আসছে না? আপনার স্মার্টফোনটিতে কয়েকটি অ্যাপ ডাউনলোড করে রাখতে পারেন, যা আপনাকে ভালো ঘুমাতে সহায়তা করবে। প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের দৈনিক আট ঘণ্টা করে ঘুমানো দরকার—এ কথা সবারই জানা। কিন্তু ঠিকমতো ঘুম না হলে অনেক স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। বর্তমান কর্মব্যস্ত জীবনের কথা বিবেচনায় অনেকেই ঠিকমতো নিয়ম করে ঘুমাতে পারেন না।


আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে ঘুমের বিষয়টিকে হিসাবের মধ্যে আনতে পারেন এবং নিয়মিত নিয়ম করে যথেষ্ট ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। গুগল প্লে স্টোরে কয়েকটি অ্যাপ আপনাকে সাহায্য করতে পারে। এ অ্যাপগুলোর মধ্যে রয়েছে স্লিপ সাইকেল, স্লিপ অ্যাজ অ্যান্ড্রয়েড, স্লিপবট, বেডইট স্লিপ ট্র্যাকার ও পিজ।
স্লিপ সাইকেল অ্যাপটিতে যে টাইম ক্যালকুলেটর আছে, তা ঘুমের পর্যায়কে ঠিকমতো ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনতে পারে। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণার হিসাবের ভিত্তিতে এই ক্যালকুলেটর তৈরি করা হয়েছে। ঘুমানোর ও জাগানোর ঠিক সময় নির্ধারণ করতে পারে এটি।
ডাউনলোডের লিংক:
https://play. google. com/store/apps/details? id=com. blogspot. novalabsandroid. sleepeasy&hl=en


স্লিপ অ্যাজ অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপটি ঘুমের বিষয়টি নজরদারি করার জন্য ভালো একটি অ্যাপ। ঘুমের অভ্যাসের লেখচিত্র তৈরি করে দেখাতে পারে এটি। ঘুমের মধ্যে কথা বলা বা নাক ডাকার বিষয়টিও রেকর্ড রাখতে পারে এটি। এ ছাড়া ঘুমের সময় হিসাব করে ঘুম বিষয়ে বিশেষ নির্দেশ দিতে পারে এটি।
ডাউনলোডের লিংক:
https://play. google. com/store/apps/details? id=com. urbandroid. sleep&hl=en

স্লিপবট ঘুম নজরদারি করার ও ঘুমের ধরন বোঝার জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ। এটি ঘুমের ভেতর কথা বলা বা নাক ডাকার মতো বিষয়গুলো ধরে দিতে পারে। ঘুমিয়ে পড়া ও জেগে ওঠার সময় ঠিক করে দেওয়া যায় এ অ্যাপ দিয়ে।
ডাউনলোডের লিংক:
https://play. google. com/store/apps/details? id=com. lslk. sleepbot&hl=en
ঘুমের সময় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিবেচনায় ধরে ‘স্লিপস্কোর’ তৈরি করে বেডইট স্লিপ ট্র্যাকার। সবুজ বাতি দেখে ঘুম ভালো হয়েছে কি না, তা বোঝা যায়। শ্বাসপ্রশ্বাস, হৃৎপিণ্ডের গতি, ঘুমের পর্যায় বিশ্লেষণ করা যায় অ্যাপটি দিয়ে।
ডাউনলোডের লিংক:
https://play. google. com/store/apps/details? id=com. beddit. beddit&hl=en
শান্তিমতো ঘুমাতে সাহায্য করে পিজ। এতে সংগীত, মনোরম শব্দ, সাউন্ড ইফেক্ট ও বাইন্যাচারাল বিট যুক্ত আছে। ঘুমানোর আগে সময় নির্ধারণ করে দিলে বিশেষ সাউন্ডট্র্যাক সৃষ্টি করে ঘুম পাড়িয়ে দিতে পারে অ্যাপটি।
ডাউনলোডের লিংক:
https://play. google. com/store/apps/details? id=com. pzizz. android&hl=en
যাঁরা ঘুমানোর আগে একটু প্রশান্তি খুঁজতে চান, তাঁরা রেইন সাউন্ড, রিলাক্স মেলোডি, ন্যাচার সাউন্ড প্রভৃতি অ্যাপ ডাউনলোড করে তা চালিয়ে ঘুমাতে পারেন।
অ্যাপ শান্তির ঘুম এনে দেবে।
(সূত্র- প্রথম আলো, জুলাই ২৬, ২০১৬) 

Tuesday, July 5, 2016

দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি হোক: শিবলী নোমান

গুলশান হামলার ঘোষিত শোকপর্ব শেষ হয় নি এখনো। মনের ক্ষত কতোটা জাগ্রত, সে না হয় বাদই দিলাম। অথচ এরই মধ্যে নানামুখী বিশ্লেষণের ভাণ্ডার আমরা খুলে বসেছি। নিজেরাই তদন্তকারী থেকে শুরু করে বিচারকও হয়ে উঠেছি। আমাদের গপ্পের গরু গাছে নাকি গোয়ালে সে খেয়াল নেই। এমন একটি ঘটনা, যা একটি বড় পরিকল্পনার অংশ, তার চুলচেরা তদন্ত ছাড়াই যখন আমরা পরস্পরবিরোধী তথ্যের মধ্যে একটির পক্ষে অন্ধ অবস্থান নিয়ে ফেলি, তখন কানাগলি ছাড়া সামনে যাবার আর কোনো পথ থাকে না। ঘটনার পর চাক্ষুস বিবরণ এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু সেই বিবরণটি কার এবং কী উদ্দেশ্যে, সেটিও ভেবে দেখা জরুরি। গুলশানে সে রাতের ঘটনায় কিছু মিসিং লিংক আছে। সেগুলো নিয়ে তদন্তকারীরা নিশ্চয় সচেতন থাকবেন। কিন্তু দুটো বিবরণ একটু আলাদা করে আলোচনা করা জরুরি। নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক, যিনি নিজেকে জিম্মি ছিলেন বলে জানিয়েছেন, তার পক্ষের বিবরণটা অনেকটা এমন, জঙ্গিরা সুরা-কলেমা পড়তে পারে কি না এবং মাথায় হিজাব আছে কি না, সেই যোগ্যতা পরখ করে করে খুনের ফায়সালা করে। দ্বিতীয় বিবরণটা আমরা পাই হোলি আর্টিজানের কর্মীর বরাতে। সেই বিবরণ এমন, অস্ত্রধারীরা বাংলাদেশের কোনো নাগরিককে মারা হবে না বলে জানিয়েছিলো। তারা বলেছিলো, বিদেশিদের মারতে তারা এসেছে। প্রথম বিবরণটা চাউরের পর এই ঘটনা আইএস-এর এবং তারা মুসলিমদের মারতে চায় নি বলে সাধারণ্যে ধারণা তৈরি হতেই পারে। এই বিবরণের যে প্রভাব তা জঙ্গি হামলা সংক্রান্ত সরলীকৃত ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। পরের বিবরণে বোঝা যায়, তাদের মূল লক্ষ্য কোনো ধর্ম নয়, ছিলো বিদেশি নাগরিকরা। প্রথম বিবরণটা নিয়ে আপাতত কিছু বলছি না। কারণ ওই বিবরণ যে পক্ষ থেকে এসেছে, তাকে নিয়ে ইতোমধ্যে কিছু প্রশ্ন উঠেছে। আমরা বরং পরের বিবরণটাতেই একটু নজর দিই। তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম, আইএস শুধু বিদেশি নাগরিকদেরকেই হত্যা করার জন্য এই পরিকল্পনা করেছিলো। তাহলে সঙ্গে সঙ্গে এই প্রশ্নটাও উঠে আসবে যে, বাংলাদেশে তাদের আস্তানা তৈরি করতে বিদেশি হত্যা এতো জরুরি কেন হয়ে গেলো? তাও প্রায় এক বছর ধরে ওরা বেছে বেছে শুধু ইটালি আর জাপানের নাগরিককেই পেলো? এই প্রশ্নটা আমার ছিলো গুলশানের ঘটনারও আগে। তাভেল্লা চেজারের পর যখন রংপুরে কুনিও হোশিকে খুন করে দিনাজপুরে আবার সেই ইটালিয়ান ধর্মযাজকের ওপর হামলা হলো। প্রশ্নটা ঠিক আমার মাথায় নয়, এসেছিলো, ওই ধর্মযাজকের এক স্বদেশি সহকর্মীর মাথায়। তিনি আমাকে বলেছিলেন, ইটালির সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ অনেক পুরনো। কেন তারা আমাদেরকে টার্গেট করলো? এরপরই প্রশ্নটা আমার মাথায়ও ঘুরছিলো। যদিও সেই সময় বিষয়টাকে স্রেফ কাকতাল বলে এড়িয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু এবার আর মোটেই সেপথে যাওয়া যাচ্ছে না। ইটালির সঙ্গে আমাদের তেমন একটা দহরম মহরম টাইপ কূটনৈতিক সম্পর্ক কখনো ছিলো বলে শুনি নি। কিন্তু ব্যবসা-বাণিজ্য এবং রেমিটেন্সের ক্ষেত্রে এই রাষ্ট্রটি বাংলাদেশের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আর জাপান তো আমাদের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী। শুধু তাই নয়, পদ্মাসেতু নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে যখন বিশ্বব্যাংক মুখ ফেরালো, জাইকা তখনও বাংলাদেশের পক্ষেই কাজ করেছে। মেট্রোরেলের মতো উন্নয়ন তৎপরতায় তারা সম্পৃক্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ যে চারটি রাষ্ট্রকে ঘিরে নিজের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সাজাচ্ছে, ইটালি ও জাপান তাদের মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশে এদের জন্য পৃথক অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির কথাও চলছে। এমন একটা পরিস্থিতিতে গত এক বছর ধরে আইএস বাংলাদেশে ইটালি কিংবা জাপানের নাগরিককে হত্যা করে কী বার্তা দিতে চায়? গুলশানের ঘটনার পর জাইকা এদেশ থেকে প্রত্যাহার করে নিতে পারে বলে কয়েকটি গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। ইটালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের ওপর নজরদারি বেড়েছে বলেও প্রকাশিত হয়েছে। খুব সহজ একটি সমীকরণ টেনে নেয়া মোটেই অসমীচীন হবে না যে, তাহলে এই হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিলো বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা। এমন একটি পরিকল্পনা করে আখেরে আইএস-এর ফায়দা কী, তা বোধগম্য না হলেও এই মুহূর্তে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করলে আখেরে লাভ কার কার, সেই তালিকাটি এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। আমার বিবেচনায় এই তালিকায়, দেশের ভেতরের গোষ্ঠী বা বাইরের বিশেষ শক্তি দুটোই যার যার স্বার্থ বিবেচনায় স্থান পাবে। সারাবিশ্বেই এখন ভাঙনের পর্ব চলছে। মানুষগুলো বড় থেকে কেন জানি স্বেচ্ছায় ছোট হতে চাইছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়া এই তালিকায় শেষ সংযোজন। দীর্ঘসময় ধরে এশিয়ার উদীয়মান শক্তিগুলো যেভাবে আঞ্চলিক সংহতি তৈরির জন্য কাজ করেছে, সেগুলো নিয়েও আপাতত কিছু সংশয় তৈরি হয়েছে। কিন্তু তার চেয়ে বড় সত্য হলো, এ অঞ্চলে বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান এমন এক জায়গায়, যেখানে হানা দেয়া সম্ভব হলে পুরো অঞ্চলটাকেই টালমাটাল করে দেয়া সম্ভব। কাজেই বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে অচল করে দেয়ার এক অভিন্ন নীলনকশা নিয়ে কয়েকটি ‘কমন ইন্টারেস্টে’ এক হওয়া শক্তিগুলোর তৎপরতায় বাংলাদেশে যে সন্ত্রাসবাদিতার দেখা মিলছে, তার পরিণতি ভোগ করতে হবে এ অঞ্চলের ছোট-বড় সব রাষ্ট্রকেই। আর সে কারণেই এই মুহূর্তে সন্ত্রাসবাদ কিংবা নিরাপত্তা ইস্যুতে অন্তত দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। এখানে সার্কের মতো একটি ফোরাম রয়েছে। খুব সহজেই নিজেদের নিরাপত্তা প্রশ্নে এখানে তাই একটি কার্যকর জোট গড়ে তোলা যেতেই পারে। এ অঞ্চলের রাষ্ট্রনায়কদের সত্যিকার অর্থেই ‘পূবে তাকাও’ ঝান্ডা উড়ানো, অথবা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দীর্ঘমেয়াদী নাকগলানো- এই দুয়ের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হবে এখনই। নাহলে সামনে সবার জন্যই অভিন্ন বিপদ।

Sunday, July 3, 2016

আসলেই আতঙ্কের: Rafiuddin Ahmed

আমি আমার বিদেশী বন্ধুদের সব সময় বলি বাংলাদেশে প্রবাসীরা দুই বার কাঁদে। একবার যখন তারা সেখানে যাবার প্ল্যান করে (ভয়ে, না জানি কি হয় কারন তাদের কাছে বাংলাদেশ একটি আতঙ্কের নাম, খুন খারাবির দেশ)। আরেকবার কাঁদে যখন তারা তাদের কাজ শেষে দেশে থেকে ফিরে আসে। আসার সময় কাঁদে কারন তারা ইতিমধ্যে দেখে গেছে বাংলাদেশের মানুষেরা কি পরিমাণ বিদেশীদের শ্রদ্ধা করে, কি পরিমাণ সন্মান করে, কি পরিমাণ ভালবাসে, কি পরিমাণ অতিথিপরায়ণ। আমার মনে আছে ছোট বেলায় আমাদের বাসার পাশে খ্রিস্টিয়ান মিশনারি ছিল যেখানে অনেক সাদা চামড়ার বিদেশী আসতেন। আমরা ওদের দিকে, ওদের বাচ্চাদের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকতাম। এত সুন্দর মানুষ ও হয়!
কিন্তু আজ এদের কি বলব। দেশে বিগত ৫, ৭ বছর আগ পর্যন্ত যত মারামারি হয়েছে খুব কমি দেখা গেছে বিদেশিদের গায়ে হাত দিতে। কারণ তারা অতিথি। আমাদের দেশ অতিথিদের কে শ্রদ্ধার, সন্মানের পাত্র হিসেবে দেখতে শিখিয়েছে। আমার পিএইচডি সুপারভাইজার সহ গত বছর প্রায় ১২-১৪ জন অস্ট্রেলিয়া থেকে আমার সাথে বাংলাদেশে গেছেন, আমার সাথে আমার বাসায় এখানে ওখানে গেছেন। তাদের ও দেখলাম একই মত। ওরা বলেছিল রাফি তোমার দেশের মানুষেরা আর্থিক ভাবে গরীব কিন্তু মনের দিক দিয়ে আসলেই অনেক ধনী। কিন্তু আজ ওদের কে আমি কি বলব! বা আমরা যারা দেশের জন্য কিছু করতে চাই তাদের কে কি বলব? কেউ কি জানেন?
পেপার এ দেখলাম সন্ত্রাসীরা নাকি সবাই বাংলাদেশি। এরা নাকি ঢাকার নামি দামি স্কুল, ভার্সিটির ছাত্র। প্রথমেই শিক্ষক হিসেবে এটা মেনে নীতে পারছিনা। আমাদের কি শিক্ষা দেয়ায় গলদ আছে? নাকি এই গলদ তৈরির কারিগর অন্য কেউ? কই আমরা তো কখনই বলিনা কারও উপর আক্রমণ কর। তাকে মেরে ফেল। তাহলে সমস্যা কোথায়? আমাদের সুন্দর শান্তির ইসলাম ধর্মেও এটা কোথাও বলা নাই। আছে কি?
আমার কাছে মনে হয় সমস্যা অন্যত্র। কারণ যারা এই রকম অন্যায় কাজে লিপ্ত হয় তারা নিজ থেকে এইসব করেনা। এদের কে কেউ খুঁজে বের করে তারপর ব্যাবহার করে। এদেরকে কেন বের করে? কারণ এরা দিন দুনিয়ার উপর অনেক হতাশ। ইদানিং ফেসবুক খুললেই দেখি তরুণ প্রজন্ম খালি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়-- ফীলিং হতাশ। এই সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। আমার অস্ট্রেলিয়ার টাইম যখন সকাল ৯ টা তখন দেখি বাংলাদেশের অনেকে অনলাইনে একটিভ। এরা রাতে ঘুমায়না। ধীরে ধীরে এরা হতাশাগ্রস্ত এক সময় নেশা গ্রস্ত মানুষে পরিণত হয়। সমাজ পরিবর্তন হচ্ছেরে ভাই। আমার দীর্ঘ দিনের সোশ্যাল ট্রেন্ড এনালাইসিস থেকে বলছি। খেয়াল করে দেখেন হতাশা কমানোর ডাক্তারের কাছে মানুষের তীব্র লাইন। এনার্জি ড্রিঙ্ক কম্পানী Redbull কোম্পানির ও বিশাল ব্যাবসা। ডিপ্রেসানের মানুষ ও অনেক সর্বত্র। ঘুমের ট্যাবলেটও প্রচুর বিক্রি হয়। সাথে সাথে বেড়ে যাচ্ছে সুইসাইডাল টেন্ডেন্সি!
''হতাশ'' মানুষ এক দিনে হয়না। হতাশ হবার অনেক কারন। পারিবারিক বন্ধনে ঝামেলা, ব্রোকেন ফ্যামিলি, খারাপ মানুষের সাথে উঠা বসা, সামাজিক মাধ্যমে তীব্র আসক্তি ধীরে ধীরে তাকে নেশার (আগে ছিল ফেন্সিডিল আর এখন ইয়াবা) দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কাজেই এগুলো খেয়াল করতে হবে সবাইকে। মানুষ যেহেতু মানুষ তারা হতাশ হবেই। কিন্তু দরকার কাউন্সেলিং। যেমন অস্ট্রেলিয়ায় দেখি এই রকম কাউন্সেলিং দেবার অনেক ওয়েবসাইট আছে। আমাদের দেশে আছে কিনা আমি জানিনা। আমাদের বাবা মায়েরাও জানে না তাদের সন্তান রাত জেগে আসলেই কি করছে। কার সাথে সারাদিন কথা বলছে। দুনিয়ায় ফ্রিক মানুষের অভাব নাইরে ভাই! আপনার আদরের সন্তানের দিকে খেয়াল করুন।ওরা হয়ত বলবে আমার প্রাইভেসি কই? প্রাইভেসি দেন কিন্তু সাথে সাথে খেয়াল ও রাখুন।
গুলি করে খুন করা আর জবাই করে খুন করার মধ্যে তীব্র ফারাক। একটা ট্রিগার টিপলেই কিন্তু মানুষ মরে। কিন্তু যারা জবাই করে মানুষ মারে (জবাই করতে অনেক মানসিক জোর লাগে, কারন এতে অনেক ব্লাড শেড হয়) তাদের কি পরিমাণ ব্রেইন ওয়াশ করে মানুষ রুপি একটা হায়েনায় রূপান্তর করা হয়েছে ভেবে দেখেছেন? এটা শুধু মাত্র দিন দুনিয়ার উপর হতাশ মানুষের পক্ষেই করা সম্ভব। আর ওদেরকে এই সব কাজের জন্য সামনে একটা মুলা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। সেটা হচ্ছে ধর্ম। ধর্ম প্রতিষ্ঠায় মরলে সরাসরি বেহেস্ত। সাথে অনেক হুর পরি। কিন্তু ওরা জানেনা ওরা আসলে খুনি। ওদেরকে বানানো ও হচ্ছে খুনি হিসেবে। আচ্ছা, মানুষকে জিম্মি করে মেরে ফেলা কি ক্রুসেড? হায়রে বোকা মানুষ?
আমাদের এখন অনেক করনীয়। আপনার আসে পাশে যদি এমন কাউকে দেখেন যার চাল চলন সন্দেহের সাথে সাথে নজর রাখুন। আইন রক্ষা বাহিনী একা কোন দিন কোন দেশে এই সব দমন করতে পারেনি, পারবেনা। আমাদের ও তাদের সাহায্য করতে হবে। এই দেশে (অস্ট্রেলিয়ায়) যেমন আছে একটা টোল ফ্রি ক্রাইম স্টপ নাম্বার। নাগরিকেরা সন্দেহ জনক কিছু দেখলেই কল করে। আমাদের দেশেও এমন কোন হেল্প লাইন চালু করা যায়। সরকারকে অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে, সবাইকে একযোগে আমাদের সন্তানদের কে রক্ষা করতে হবে। সচেতন নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে কোন অন্যায়, দুর্নীতি দেখলে সাথে সাথে ওদের জানান। সামাজিক মাধ্যমে দিয়ে দিন। পারলে ফেসবুকে লাইভ হয়ে যান।
হতাশ মানুষ ভালবাসা চায়। আমি মনে করি কেউ অনেক ভালবাসা পেলে কোনদিনই হতাশ হতে পারেনা। কোন রকমের জিঘাংসায় নেমে যেতে পারেনা। ভালবাসুন, প্রাণ খুলে হাসুন। দেখবেন আপনার পক্ষে হতাশ হওয়া অনেক কঠিন। আমি এটা মেনে চলি। মন খারাপ হলেই হাঁসির কিছু দেখি সেটা মুভি হোক, ইউটিউব হোক।সমাজ যত ভালবাসাহীন হবে, যত আমরা মানুষ থেকে দূরে সরে যাব মানুষ ততই অমানুষ হয়ে যাবে, দেখবেন।
কাজেই প্রিয় বাবা মায়েরা, আপনার বাচ্চাদেরকে সময় দিন, তাদের নিয়ে ঘুরতে যান, তাদেরকে সামাজিক জীব বানান, সহনশীল হতে শেখান। মনে রাখবেন ওরা কিন্তু ভালবাসার কাঙ্গাল। ওদেরকে যত ভালবাসায় অভুক্ত রাখবেন ওরা ততই বিপদজনক হয়ে উঠবে। ওদেরকে মানুষ বানান, মানুষ মারার কারিগর না।
আর ধর্মেও তো বলা আছে হতাশ হইওনা যদি মুমিন হও। কাজেই মুমিন হন, হতাশ না, খুনি না।

Saturday, July 2, 2016

Night of Power, Night of Value, Night of Destiny-LAILATUL QAD'R

Laylat al-Qadr
Laylat-al-qadr.jpg
Reading Qur'an is one of the key observances of the Qadr night.
Official nameليلة القدر (Night of Decree)
Also calledNight of Power, Night of Value, Night of Destiny, or Night of Measure
Observed byMuslims
SignificanceNight the Quran was revealed;
Angels descend to the earth and the annual decree is revealed to them;
Better than 1000 months of worship
ObservancesNight prayers, ReadingQuran, Making Dua, DoingDhikr

Friday, July 1, 2016

আমাদের গর্ব, আমাদের পলান সরকার।

এই মানুষটাকে স্যালুট.........
রাজশাহীর পলান সরকার।
রোজ ২০ -২৫ কিলোমিটার হেঁটে বিনামূল্যে সবাইকে বই বিলি করেন। পড়া হলে আবার ফেরত নিয়ে নেন। ৩৫ বছর ধরে অজ-পাড়াগাঁয়ে এভাবে তিনি নিরবে জ্ঞানের আলো জ্বালিয়ে চলছেন।
তাই পলান সরকার নামটি শুনলেই মাথা নত হয়ে আসে। তিনি একাই একটি গণগ্রন্থাগার।
স্যালুট -পলান সরকার।


Thursday, June 30, 2016

আজ মাস্টারদা সূর্যসেনের জন্মদিন

ভারত উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিত্ব মাস্টারদা সূর্যসেন। পূর্ববঙ্গে জন্ম নেয়া এই বাঙালি বিপ্লবী তৎকালীন ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং নিজ জীবন বলীদান করেন। 'মাস্টারদা' ‘যুগান্তর’ দলের চট্টগ্রাম শাখার প্রধান এবং ১৯৩০ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের প্রধান সংগঠক। জন্ম ১৮৯৪ সালে চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়া গ্রামে। পুরো নাম সূর্যকুমার সেন। ডাক নাম কালু। বাবা রাজমনি সেন এবং মা শশীবালা দেবী। স্থানীয় দয়াময়ী বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষার পর নোয়াপাড়া উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেন এবং ১৯১২ সালে চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হাই স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হন।
সূর্যসেন যখন নোয়াপাড়া উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ের ছাত্র তখন বঙ্গভঙ্গকে (১৯০৫) কেন্দ্র করে বাংলায় স্বদেশী আন্দোলন শুরু হয়। ক্রমে এই আন্দোলন বিপ্লবী আন্দোলনে রূপ নেয়। ১৯১৬ সালে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর কৃঞ্চনাথ কলেজে বি.এ পড়ার সময় তিনি তাঁর এক শিক্ষক শতীশচন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত হন। অধ্যাপক শতীশচন্দ্র চক্রবর্তী যুগান্তর নামক বিপ্লবী দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামে ফিরে গিয়ে ব্রিটিশ বিরোধী একটা বিপ্লবী দল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। সূর্যসেন ১৯১৮ সালে চট্টগ্রামে ফিরে বিপ্লবী যুগান্তর দলকে পুনরুজ্জীবিত করেন। আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে তিনি ‘ন্যাশনাল স্কুল’-এ শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। শিক্ষকতা করার কারণে তিনি পরিচিত মহলে ‘মাস্টারদা’ আখ্যা পান। চট্টগ্রামে তখন বিপ্লবী দলে কাজ করতেন আম্বিকা চক্রবর্তী, অনুরূপ সেন, নগেন সেন (জুলু সেন), চারুবিকাশ দত্ত সহ আরো অনেকে। কিন্তু তাঁদের তৎপরতা ছিল সীমিত পর্যায়ের। বাংলাদেশে বিপ্লবীরা তখন অনুশীলন ও যুগান্তর  এই দুই দলে বিভক্ত ছিলেন। বহরমপুর থেকে ফিরে এসে সূর্যসেন যুগান্তর দলে যোগ দিয়ে সংগঠনটিকে সক্রিয় করে তোলেন এবং বিবাদমান দল দুইটিকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেন।
ক্রমে তাঁর দলই চট্টগ্রামে সক্রিয় হয়ে ওঠে। ১৯১৯ সালের পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের ছাত্ররা ক্লাসবর্জন সহ সভা-সমাবেশ করে। সভায় সূর্যসেন তাঁর বক্তৃতায় ব্রিটিশ বিরোধী  মনোভাব জাগিয়ে তুলতে সক্ষম হন। অহিংস নীতিতে বিশ্বাসী মোহন দাস করম চাঁদ গান্ধী আফ্রিকা থেকে এসে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সাধারণ মানুষ উজ্জীবিত হয়েছিল। চট্টগ্রামের বিপ্লবীরাও ছাত্র ধর্মঘট, হরতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আদালত বর্জন, সভা-সমাবেশ বক্তৃতাসহ নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালাতে থাকে।
এ সময়ের দুটি ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ। (১) ব্রিটিশ মালিকানাধীন জাহাজের শ্রমিকদের সফল ধর্মঘট এবং (২) ব্রিটিশ মালিকানাধীন সিলেট ও কাছাড়ের চা বাগান শ্রমিকদের ধর্মঘট ও চাঁদপুরে ধর্মঘটি শ্রমিকদের উপর পুলিশ এবং গোর্খা সৈন্যদের গুলিবর্ষণে অনেকের হতাহত হওয়ার ঘটনা। এ ঘটনার প্রতিবাদে আসাম-বেঙ্গল রেল ধর্মঘট শুরু হয়। এর ফলে চট্টগ্রামের কংগ্রেস নেতা যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত ও শেখ-ই-চাটগ্রাম কাজেম আলী মাস্টারের পাশাপাশি মাস্টারদা সূর্যসেন এর নামও ছড়িয়ে পড়ে। অসহযোগ আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ে তিনি স্কুলের শিক্ষকতা ত্যাগ করেন এবং দেওয়ানবাজার এলাকায় ‘সাম্যশ্রম’ নামের আশ্রম প্রতিষ্ঠা করে সেখান থেকেই তিনি কংগ্রেসের কাজ ও গোপনে বিপ্লবীদের কর্মকান্ড পরিচালনা করতে থাকেন। অসহযোগ আন্দোলনের ফলে গান্ধীজীর স্বরাজ অর্জিত না হলেও বাংলার বিপ্লবীরা পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে ব্রিটিশ রাজত্বের অবসানে সংকল্পবদ্ধ হয়। চট্টগ্রামের বিপ্লবীরা মাস্টারদা এর নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হন। বিপ্লব পরিচালনার জন্য নগদ অর্থের প্রয়োজন ছিল বলে তাঁরা প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের চট্টগ্রাম কোষাগার লুণ্ঠন করেন। এই ঘটনার কিছুদিন পরই সূর্যসেন ও আম্বিকা চক্রবর্তীকে পুলিশ গ্রেফতার করে। ১৯২৮ সালের শেষ দিকে মুক্তি পেয়ে পুনরায় বিপ্লবীদের সংগঠিত করার কাজ শুরু করেন। সূর্যসেন চট্টগ্রামের বিপ্লবীদের জন্য ব্যায়ামাগার প্রতিষ্ঠা করে শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনের জন্য কসরতের নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি নদীতে সাঁতার কাটা, নৌকা বা সাম্পান চালানো, গাছে আরোহণ করা, লাঠি খেলা, ছোরা নিক্ষেপ, মুষ্টিযুদ্ধের মত শারীরিক কঠোর পরিশ্রমের কাজ করতে নির্দেশ দেন। সেখানে তিনি বিপ্লবীদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ তৈরির প্রশিক্ষণ দেন। চট্টগ্রামে তিনি ‘ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি’ এর একটি শাখা গড়ে তোলেন।
১৯২৯ সালে চট্টগ্রামের জেলা কংগ্রেসের সম্মেলনে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু। এতে সূর্যসেন সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। একই বছর ১৩ সেপ্টেম্বর লাহোর জেলে একটানা ৬৩ দিন অনশন করে বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ মারা যান। এর প্রতিক্রিয়ায় সারা বাংলায় প্রচন্ড বিক্ষোভ দেখা দেয়। বিক্ষোভ মিছিল ও সভায় নেতা সূর্যসেন বিপ্লবের পরবর্তী কার্যক্রমের পরিকল্পনা সদস্যদের সামনে তুলে ধরেন। বিপ্লবীরা স্বাধীনতার জন্য প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করার শপথ নেন। এর জন্য তাঁরা ‘মৃত্যুর কর্মসূচি’ ঘোষণা করেন।
প্রাথমিকভাবে হামলার দিন নির্ধারণ করা হয় ১৯২৯ সালের ডিসেম্বর মাসে। কিন্তু পুলিশী তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় এর তারিখ পিছিয়ে যায়। এ সময়েই গঠিত হয় সূর্যসেন এর গোয়েন্দা দল। গোয়েন্দা দলের বিপ্লবীরা চট্টগ্রামে বোমা বানানোর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ১৯৩০ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তাঁদের প্রস্ত্ততি চলে। সূর্যসেন গোপনে ইস্তেহার প্রচার করেন। এতে তিনি কৌশল হিসেবে প্রচার করেন যে, ২১ এপ্রিল চট্টগ্রাম শহরের গান্ধী ময়দানে বিপ্লবীরা নিষিদ্ধ পুস্তক পাঠ করে আইন অমান্য করবেন। এতে সূর্যসেন সহ আরও কয়েকজন বিপ্লবীর নাম ছাপা হয়। কর্মসূচির প্রকৃত তারিখ ছিল ১৮ এপ্রিল।
১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিলের সশস্ত্র বিদ্রোহ ছিল সূর্যসেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীদের দীর্ঘ সময়ের প্রস্ত্ততি ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার ফসল। প্রাথমিক পর্যায়ে অহিংস ও নিয়মতান্ত্রিক পথ ধরে বিপ্লবের সূচনা হলেও সময়ের ব্যবধানে সংগ্রামের অবশ্যম্ভাবী পরিণতিতে হিংসাত্মক কর্মনীতি বা বিপ্লববাদ দেখা দেয়। খ্রিস্টানদের গুড ফ্রাইডেতে বিপ্লবীদের কর্মসূচি ছিল:
১. পুলিশের অস্ত্রাগার লুণ্ঠন। এই দলের নেতৃত্ব দেন অনন্ত সিং ও গণেশ ঘোষ;
২. অক্সিলিয়ারি ফোর্সের অস্ত্রাগার দখল। এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন নির্মল সেন ও লোকনাথ;
৩. টেলিফোন-টেলিগ্রাফ ভবন দখল। আম্বিকা চক্রবর্তী এই দলের নেতৃত্ব দেন;
৪. ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণ। দলের নেতৃত্ব দেন নরেশ রায়;
৫. চট্টগ্রামের সঙ্গে অন্যান্য অঞ্চলের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার দায়িত্বে ছিলেন উপেন্দ্রকুমার ভট্টাচার্য ও লালমোহন সেন;
৬. বিদ্রোহের খবর চট্টগ্রাম শহরে প্রচারের দায়িত্বে ছিলেন সুখেন্দু দস্তিদার, শৈলেশ্বর চক্রবর্তী, অর্ধেন্দু গুহু, দীনেশ চক্রবর্তী ও হরলাল চৌধুরী।
বিপ্লবীদের ঘোষণাপত্রের প্রথমটিতে ছিল সশস্ত্র বিপ্লবের উদ্দেশ্য, দ্বিতীয়টিতে ছিল দেশের যুবকদের প্রতি রিপাবলিকান আর্মিতে যোগ দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে যোগদানের আহবান।
১৮ তারিখে গুড ফ্রাইডে থাকায় সেদিন ইউরোপীয়ান ক্লাবে ইংরেজ পদস্থ কর্মকর্তারা কেউ উপস্থিত ছিল না এবং অক্সিলিয়ারি ফোর্সের অস্ত্রাগারে ভারী অস্ত্র মিললেও কোন গুলি পাওয়া যায়নি বলে এই দুটি ক্ষেত্রে আশানুরূপ সফলতা আসেনি। তবে সূর্যসেনের নেতৃত্বে পুলিশের অস্ত্রাগার দখলের পর অস্ত্র ও গুলি সংগৃহীত হয়। অস্ত্রাগারে আগুন লাগানোর সময় অগ্নিদগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন বিপ্লবী হিমাংশু বিমল সেন। সূর্যসেন পাহাড়ে আত্মগোপন করেন। তিনি দলের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন যে, বিপ্লবী দল চট্টগ্রামে গিয়ে ইংরেজদের আক্রমণ করবে। সবাই এতে একমত হলে মাস্টারদা লোকনাথ বলকে ভারতীয় প্রজাতন্ত্রী বাহিনীর সেনাপতি নিযুক্ত করেন ও বিপ্লব পরিচালনার দায়িত্ব দেন। ১৯৩০ সালের ২২ এপ্রিল এ সংঘটিত যুদ্ধে ১৪ জন বিপ্লবী শহীদ হন। সূর্যসেন এর নেতৃত্বে দলটি পাহাড়ে আত্মগোপন করেন। এদের ধরার জন্য ইংরেজ সরকার পুরস্কার ঘোষণা করে। সূর্যসেনকে গ্রেফতার করতে না পারলেও সরকার ১৯৩০ সালের ২৪ জুলাই চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন মামলা চট্টগ্রামের বিশেষ ট্রাইবুনালে শুরু করে। ১৯৩২ সালের জুন মাসে মাস্টারদা প্রীতিলতা ও কল্পনা দত্তকে বোমা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম কারাগার ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেবার নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু সে পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। এই ঘটনায় ১১ জন বিপ্লবী গ্রেফতার হন। ২৪ সেপ্টেম্বর তারিখে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার পাহাড়তলী ইউরোপীয়ান ক্লাবে সফল আক্রমণ চালান, তবে তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন।
এ ঘটনার পরে মাস্টারদা পটিয়ার নিকটে গৈরালা গ্রামে আত্মগোপন করেন। কিন্তু গ্রামবাসীদের একজন সূর্যসেনের লুকিয়ে থাকার তথ্য পুলিশকে জানিয়ে দেয়। ১৯৩৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে একদল গোর্খা সৈন্য গোপন স্থানটি ঘিরে ফেলে। সৈন্যবেষ্টনী ভেঙ্গে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সূর্যসেন ধরা পড়েন। সঙ্গে ছিলেন কল্পনা দত্ত, শান্তি চক্রবর্তী, সুশীল দাস গুপ্ত ও মনিলাল দত্ত সহ আরও কয়েকজন বিপ্লবী।
‘যুগান্তর’ দলের চট্টগ্রাম শাখার নতুন সভাপতি তারকেশ্বর দস্তিদার সূর্যসেনকে চট্টগ্রাম জেল থেকে ছিনিয়ে আনার প্রস্ততি নেন। কিন্তু পরিকল্পনাটি ব্যর্থ হয়। তারকেশ্বর এর সঙ্গে আরও কয়েকজনের গ্রেপ্তার হন। ১৯৩৩ সালে সূর্যসেন, তারকেশ্বর দস্তিদার এবং কল্পনা দত্তের বিশেষ আদালতে বিচার হয়। ১৪ আগস্ট সূর্যসেন ও তারেকেশ্বর দস্তিদার এর ফাঁসির রায় হয় এবং কল্পনা দত্তের যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়। ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কারাগারে উভয়ের ফাঁসি কার্যকর হয়। সূত্র বাংলাপিডিয়া

প্রকাশের অপেক্ষায় বিশ্বের ক্ষুদ্রতম দৈনিক

রাজশাহী থেকেই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে বিশ্বের ক্ষুদ্রতম পূর্ণাঙ্গ দৈনিক সংবাদপত্র। এ খবর সত্যিই অবাক করা। কিন্তু বাস্তবেই হতে চলেছে তা। আগামী দুই থেকে চার মাসের মধ্যে পাঠকের হাতে পৌঁছে যাবে এ দৈনিক।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রকাশিতব্য এ সংবাদপত্রের উদ্যোক্তা কবি ও সাংবাদিক শামীম হোসেন।
তিনি বলেন, দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে সংবাদপত্রটি হবে যথাক্রমে ১১ ইঞ্চি ও সাড়ে ৮ ইঞ্চি। চার পৃষ্টার ক্ষুদ্রতম এ সংবাদপত্রটি রাজশাহীতে এ যাবত প্রকাশিত ক্ষুদ্রতম সংবাদপত্র। তার জানা মতে এটি বিশ্বেও ক্ষুদ্রতম সংবাদপত্র।

তিনি আরো বলেন, সংবাদপত্রটির সংবাদ উপস্থাপনা ও সাজসজ্জা কেমন হবে তা নিয়ে কাজ করছে একটি বিশেষজ্ঞ টিম। গতানুগতিক সংবাদ ধারার বাইরে সৃজনশীল সাংবাদিকতা চর্চায় এ উদ্যোগ।
ছাপা কাগজের পাশাপাশি ওই সংবাদপত্রের অনলাইন সংস্ককরণও থাকবে। সংবাদপত্রটির নামও ঠিক করা হয়েছে। তবে এখন তা চমক হিসেবে রেখেই দিচ্ছেন উদ্যোক্তা।

Thursday, June 23, 2016

অকৃত্রিম ভালোবাসা ও কিছু সত্য কথা

একবার একটা লঞ্চ দূর্ঘটনায় পড়লো। লঞ্চের এক দম্পত্তি একটা লাইফবোট পেল। কিন্তু স্বামীটা বুঝে ফেললো সেখানে একজনের বেশি উঠতে পারবে না। লোকটা তার স্ত্রীকে পিছনে ঠেলে দিয়ে নিজে লাফিয়ে উঠে পড়লো। ডুবন্ত লঞ্চে দাঁড়িয়ে থেকে মহিলা স্বামীর উদ্দেশ্যে একটাই মাত্র বাক্য চিৎকার করে বলেছিলো।
শিক্ষক এটুকু বলে থামলেন, চারদিকে তাকিয়ে ছাত্রদের প্রতিক্রিয়া বুঝতে চাইলেন, “তোমাদের কি মনে হয়? কি বলেছিলো মহিলা!
-“তুমি একটা ইতর, আমি কি অন্ধই না ছিলাম!অধিকাংশ ছাত্রই এ ধরনের জবাব দিলো।

শিক্ষক খেয়াল করলেন একটা ছেলে পুরোটা সময় ধরেই চুপ, তার মতামত জানতে চাইলে সে বললো, “স্যার, আমার বিশ্বাস, মহিলাটি বলেছিল, আমাদের বাচ্চাটার যত্ন নিও, ওকে দেখে রেখ।
বিস্মিত হয়ে শিক্ষক জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি এই গল্প আগে শুনেছ, তাই না!

ছেলেটি মাথা নেড়ে জবাব দিলো, “ আমার মাও অসুখে মারা যাওয়ার পূর্বমূহূর্তে বাবাকে একথাই বলেছিলো।
শিক্ষক একমত হলেন, তুমিই ঠিক।
লঞ্চটা ডুবে গেলো এবং বাড়ি ফিরে লোকটা একাকী মেয়েকে যত্ন করে বড় করলো।

লোকটি মারা যাওয়ার বেশ কয়েক বছর পরে তাদের কন্যা বাবার একটি ডায়েরী পেল। সেখানে সে আবিষ্কার করলো, লঞ্চযাত্রায় যাওয়ার আগেই মায়ের দুরারোগ্য অসুখ ধরা পড়েছিলো, চরম মূহূর্তে তার বাবা তাই বাঁচার একমাত্র উপায়ের সদ্ব্যবহার করেছে।
ডায়েরীতে তার বাবা লিখেছে, “আমারও তোমার সাথে সাগরের তলে ডুবে যেতে ইচ্ছে হচ্ছিলো, কিন্তু শুধু মেয়ের কথা ভেবে তোমাকে একাই সাগর তলে চিরদিনের জন্য ছেড়ে আসতে হলো।
গল্প শেষ হলো, ক্লাস একদম চুপ।

শিক্ষক বুঝলেন, ছাত্রেরা গল্পের শিক্ষাটা ধরতে পেরেছে। ভালো এবং মন্দ, পৃথিবীর সব কিছুর পেছনেই অনেক জটিলতা আছে যা সব সময় বোঝা যায় না।
আমাদের কখনোই শুধুমাত্র উপরের তল দেখেই যাচাই করা উচিত না, অন্যকে না বুঝেই বিচার করে ফেলাটা বেশ বোকামি।
গল্পটি ভালো লাগায় একটা ইংলিশ পেজ থেকে অনুবাদ করেছি।

* যারা খাবারের বিলটা সবসময়ই নিজে দিতে চায়, তার মানে এই নয় যে তার টাকা উপচে পড়ছে, এর কারন সে টাকার চেয়ে বন্ধুত্বকে বড় করে দেখে।
* যারা আগে ভাগেই কাজ করে ফেলে, এর মানে সে বোকা না, আসলে তার দায়িত্বজ্ঞান রয়েছে।
* যারা ঝগড়া বা বাকবিতন্ডার পরে আগে মাফ চেয়ে নেয়, সেই ভুল ছিলো এমনটা নয়, বরঞ্চ সে চারপাশের মানুষকে মূল্যায়ন করে।
* তোমাকে যে সাহায্য করতে চায় সে তোমার কাছে কোন কিছু আশা করে না, বরং একজন প্রকৃত বন্ধু মনে করে।
* কেউ আপনাকে প্রায়ই টেক্সট করে তার মানে এটা নয় যে তার কোন কাজ নেই, আসলে আপনাকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসে।
একদিন আমরা একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবো, কিন্তু আমাদের আচরণ ও ভালোবাসাগুলো মানুষের হৃদয়ে থেকে যাবে। কেউ না কেউ স্মরণ করবে,
এ হচ্ছে সেই মানুষ যার সাথে আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ কিছু সময় কাটিয়েছি।

(.Copied.)


Wednesday, June 22, 2016

Monday, June 20, 2016

Find out how the bachelors enjoy their iftar with so many delicious dishes.

The month of RAMADAN is going on. After a daylong fasting, the muslims sit to have their iftar. The picture reveals how the bachelors enjoy their iftar with so many delicious dishes.
Bachelors iftar.
Photo: Imran Sikder.

বাবা, ভালো থেকো...

প্রতি মুহূর্তে যে মানুষটাকে মনে মনে খুঁজি, যার দেখানো আদর্শই আমার চলার পাথেয়, তিনি আমার বাবা। সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১১ সালে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। শুধু এটুকুই প্রার্থনা স্রস্টার নিকট, 'হে  মহামহিম, ভালো রেখো পৃথিবীর সকল বাবাদের।'
 
বাবা, ভালো থেকো...

What a consultant told after observing his new colleagues. (HBR)

what a consultant to a newly merged firm was told after observing that none of his new colleagues ever stayed in the office past 5:30

Sunday, June 19, 2016

Rajshahi: the city that took on air pollution – and won (The Guardian)

Once, Rajshahi’s sweltering summers were made worse by a familiar problem on the Asian subcontinent: windows would have to be shut, not because of the wind or monsoon, but because of the smog.
Dust blown up from dry riverbeds, fields and roads, and choking smog from ranks of brick kilns on the edge of town helped to secure the place a spot in the top tier of the world’s most polluted cities.

Then suddenly Rajshahi, in Bangladesh, hit a turning point so dramatic that it earned a spot in the record books: last year, according to UN data, the town did more than any other worldwide to rid itself of air particles so harmful to human health.
“We didn’t know about this,” admits Ashraful Haque, the city’s chief engineer, who like some of his fellow residents is rather bemused by the achievement.
Air pollution: ten cities with the biggest drops
Change in concentration of PM10 particles (mg/cubic metre), 2014–16
Rajshahi, Bangladesh (67.2% decrease)
Ahvaz, Iran (27.8)
Amman, Jordan (46.8)
Tezpur, India (84.1)
Delhi, India (19.9)
Mexico City, Mexico (54.8)
Panzhihua, China (51)
Panaji, India (42.2)
Yan'an, China (39.3)
Igdir, Turkey (34.8)

Rajshahi does not have a large industrial area, and it is too poor to have streets clogged with cars. Instead, Haque believes it was the campaign to clean up thebrick kilns, as well as efforts to make the city greener, that have turned the tide.
Levels of larger PM10 particles went from 195 micrograms per cubic metre in 2014, to just 63.9 in 2016, a reduction of about two-thirds, and the largest in the world in absolute terms. Smaller PM2.5 particles have been nearly halved to 37 micrograms per cubic metre from 70.
Haque, who was born and educated in the city, remembers as a child having to close windows and doors to shut out a thin film of dirt that would settle across every surface in the house when a wind swept in from outside.
Nowadays it’s a different city, thanks to the campaign that began with a tree-planting drive more than 15 years ago, and now encompasses everything from transport to rubbish collection. Dust still hangs heavy in the air on occasions, but the transformation has been welcomed by local residents in a country where urban authorities more often generate frustration and resentment.
“Things have got better for my classmates with asthma,” said Fatema Tuzzohra, a 13-year-old enjoying a riverside park after school. “I love the city, it is really clean and green.”
The city began tackling transport issues in 2004, importing a fleet of battery-powered rickshaws from China, and banning large lorries from the city centre in daytime. The three-wheelers are the main form of public transport, and their batteries keep the air free of the petrol and diesel fumes that hang over other cities.
Upgrades to the brick kilns, such as changing chimneys and fuel, have reduced the amount of pollution they spew out around the city, Haque says. And he has personally designed and overseen a project to make the city centre greener while reducing the amount of dust kicked up by people and vehicles.
“We have a ‘zero soil’ programme in the city, with lots of planting and green intervention. When it works, there should be no part of the road that will be dirt. It will be all grass, flower or pavement,” says Haque.
He became convinced that the city needed more pavements after trips to study urban planning abroad. At the time the asphalt surfacing of the city roads mostly ended in a dusty verge, sometimes with open drains, dangerous and unappealing for walking along, he said.
“In 2010, after a visit to London, I started creating pavements. I couldn’t believe it, everyone has to walk at least 2km a day [in London], but here people finish lunch and look for a rickshaw. Even in the good neighbourhoods, there are no pavements.”
Apart from encouraging a healthier lifestyle, they are vital for controlling dust in the air, he says. “If you have them, no soil will fly during the summer seasons.” So far they have built about 9 miles (15km) of pavements, but soon hope to expand to 30, he said.
The road transformation will go beyond pedestrians this month, when city workers start building the city’s – and the country’s – very first cycle lane.
Take-up is likely to be slow in a city already sweltering in the summer heat, and where the only people on bicycles are those too poor to afford other transport, Haque admits. But inspired by trips abroad, he hopes to sow the first seeds of change.
“I went to the river Thames and saw people riding bikes, I got the idea from Japan and China as well. We don’t have enough land for a separate lane in many places, but where we can we will separate with a border, making a pavement and a cycle lane beside it.”
People are proud of their town, and have started looking after it more closely after the transformation, says restaurateur SM Shihab Uddin, who spent nearly a decade working in Cyprus before returning to open his own chain of eating spots for the growing middle class.
“It has changed so much,” he said. “I came back in 2009, and I was worried that I would find it hard to live here after so much time abroad. But it was already transformed.”