আমি আমার বিদেশী বন্ধুদের সব সময় বলি বাংলাদেশে প্রবাসীরা দুই বার কাঁদে। একবার যখন তারা সেখানে যাবার প্ল্যান করে (ভয়ে, না জানি কি হয় কারন তাদের কাছে বাংলাদেশ একটি আতঙ্কের নাম, খুন খারাবির দেশ)। আরেকবার কাঁদে যখন তারা তাদের কাজ শেষে দেশে থেকে ফিরে আসে। আসার সময় কাঁদে কারন তারা ইতিমধ্যে দেখে গেছে বাংলাদেশের মানুষেরা কি পরিমাণ বিদেশীদের শ্রদ্ধা করে, কি পরিমাণ সন্মান করে, কি পরিমাণ ভালবাসে, কি পরিমাণ অতিথিপরায়ণ। আমার মনে আছে ছোট বেলায় আমাদের বাসার পাশে খ্রিস্টিয়ান মিশনারি ছিল যেখানে অনেক সাদা চামড়ার বিদেশী আসতেন। আমরা ওদের দিকে, ওদের বাচ্চাদের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকতাম। এত সুন্দর মানুষ ও হয়!
কিন্তু আজ এদের কি বলব। দেশে বিগত ৫, ৭ বছর আগ পর্যন্ত যত মারামারি হয়েছে খুব কমি দেখা গেছে বিদেশিদের গায়ে হাত দিতে। কারণ তারা অতিথি। আমাদের দেশ অতিথিদের কে শ্রদ্ধার, সন্মানের পাত্র হিসেবে দেখতে শিখিয়েছে। আমার পিএইচডি সুপারভাইজার সহ গত বছর প্রায় ১২-১৪ জন অস্ট্রেলিয়া থেকে আমার সাথে বাংলাদেশে গেছেন, আমার সাথে আমার বাসায় এখানে ওখানে গেছেন। তাদের ও দেখলাম একই মত। ওরা বলেছিল রাফি তোমার দেশের মানুষেরা আর্থিক ভাবে গরীব কিন্তু মনের দিক দিয়ে আসলেই অনেক ধনী। কিন্তু আজ ওদের কে আমি কি বলব! বা আমরা যারা দেশের জন্য কিছু করতে চাই তাদের কে কি বলব? কেউ কি জানেন?
পেপার এ দেখলাম সন্ত্রাসীরা নাকি সবাই বাংলাদেশি। এরা নাকি ঢাকার নামি দামি স্কুল, ভার্সিটির ছাত্র। প্রথমেই শিক্ষক হিসেবে এটা মেনে নীতে পারছিনা। আমাদের কি শিক্ষা দেয়ায় গলদ আছে? নাকি এই গলদ তৈরির কারিগর অন্য কেউ? কই আমরা তো কখনই বলিনা কারও উপর আক্রমণ কর। তাকে মেরে ফেল। তাহলে সমস্যা কোথায়? আমাদের সুন্দর শান্তির ইসলাম ধর্মেও এটা কোথাও বলা নাই। আছে কি?
আমার কাছে মনে হয় সমস্যা অন্যত্র। কারণ যারা এই রকম অন্যায় কাজে লিপ্ত হয় তারা নিজ থেকে এইসব করেনা। এদের কে কেউ খুঁজে বের করে তারপর ব্যাবহার করে। এদেরকে কেন বের করে? কারণ এরা দিন দুনিয়ার উপর অনেক হতাশ। ইদানিং ফেসবুক খুললেই দেখি তরুণ প্রজন্ম খালি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়-- ফীলিং হতাশ। এই সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। আমার অস্ট্রেলিয়ার টাইম যখন সকাল ৯ টা তখন দেখি বাংলাদেশের অনেকে অনলাইনে একটিভ। এরা রাতে ঘুমায়না। ধীরে ধীরে এরা হতাশাগ্রস্ত এক সময় নেশা গ্রস্ত মানুষে পরিণত হয়। সমাজ পরিবর্তন হচ্ছেরে ভাই। আমার দীর্ঘ দিনের সোশ্যাল ট্রেন্ড এনালাইসিস থেকে বলছি। খেয়াল করে দেখেন হতাশা কমানোর ডাক্তারের কাছে মানুষের তীব্র লাইন। এনার্জি ড্রিঙ্ক কম্পানী Redbull কোম্পানির ও বিশাল ব্যাবসা। ডিপ্রেসানের মানুষ ও অনেক সর্বত্র। ঘুমের ট্যাবলেটও প্রচুর বিক্রি হয়। সাথে সাথে বেড়ে যাচ্ছে সুইসাইডাল টেন্ডেন্সি!
আমার কাছে মনে হয় সমস্যা অন্যত্র। কারণ যারা এই রকম অন্যায় কাজে লিপ্ত হয় তারা নিজ থেকে এইসব করেনা। এদের কে কেউ খুঁজে বের করে তারপর ব্যাবহার করে। এদেরকে কেন বের করে? কারণ এরা দিন দুনিয়ার উপর অনেক হতাশ। ইদানিং ফেসবুক খুললেই দেখি তরুণ প্রজন্ম খালি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়-- ফীলিং হতাশ। এই সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। আমার অস্ট্রেলিয়ার টাইম যখন সকাল ৯ টা তখন দেখি বাংলাদেশের অনেকে অনলাইনে একটিভ। এরা রাতে ঘুমায়না। ধীরে ধীরে এরা হতাশাগ্রস্ত এক সময় নেশা গ্রস্ত মানুষে পরিণত হয়। সমাজ পরিবর্তন হচ্ছেরে ভাই। আমার দীর্ঘ দিনের সোশ্যাল ট্রেন্ড এনালাইসিস থেকে বলছি। খেয়াল করে দেখেন হতাশা কমানোর ডাক্তারের কাছে মানুষের তীব্র লাইন। এনার্জি ড্রিঙ্ক কম্পানী Redbull কোম্পানির ও বিশাল ব্যাবসা। ডিপ্রেসানের মানুষ ও অনেক সর্বত্র। ঘুমের ট্যাবলেটও প্রচুর বিক্রি হয়। সাথে সাথে বেড়ে যাচ্ছে সুইসাইডাল টেন্ডেন্সি!
''হতাশ'' মানুষ এক দিনে হয়না। হতাশ হবার অনেক কারন। পারিবারিক বন্ধনে ঝামেলা, ব্রোকেন ফ্যামিলি, খারাপ মানুষের সাথে উঠা বসা, সামাজিক মাধ্যমে তীব্র আসক্তি ধীরে ধীরে তাকে নেশার (আগে ছিল ফেন্সিডিল আর এখন ইয়াবা) দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কাজেই এগুলো খেয়াল করতে হবে সবাইকে। মানুষ যেহেতু মানুষ তারা হতাশ হবেই। কিন্তু দরকার কাউন্সেলিং। যেমন অস্ট্রেলিয়ায় দেখি এই রকম কাউন্সেলিং দেবার অনেক ওয়েবসাইট আছে। আমাদের দেশে আছে কিনা আমি জানিনা। আমাদের বাবা মায়েরাও জানে না তাদের সন্তান রাত জেগে আসলেই কি করছে। কার সাথে সারাদিন কথা বলছে। দুনিয়ায় ফ্রিক মানুষের অভাব নাইরে ভাই! আপনার আদরের সন্তানের দিকে খেয়াল করুন।ওরা হয়ত বলবে আমার প্রাইভেসি কই? প্রাইভেসি দেন কিন্তু সাথে সাথে খেয়াল ও রাখুন।
গুলি করে খুন করা আর জবাই করে খুন করার মধ্যে তীব্র ফারাক। একটা ট্রিগার টিপলেই কিন্তু মানুষ মরে। কিন্তু যারা জবাই করে মানুষ মারে (জবাই করতে অনেক মানসিক জোর লাগে, কারন এতে অনেক ব্লাড শেড হয়) তাদের কি পরিমাণ ব্রেইন ওয়াশ করে মানুষ রুপি একটা হায়েনায় রূপান্তর করা হয়েছে ভেবে দেখেছেন? এটা শুধু মাত্র দিন দুনিয়ার উপর হতাশ মানুষের পক্ষেই করা সম্ভব। আর ওদেরকে এই সব কাজের জন্য সামনে একটা মুলা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। সেটা হচ্ছে ধর্ম। ধর্ম প্রতিষ্ঠায় মরলে সরাসরি বেহেস্ত। সাথে অনেক হুর পরি। কিন্তু ওরা জানেনা ওরা আসলে খুনি। ওদেরকে বানানো ও হচ্ছে খুনি হিসেবে। আচ্ছা, মানুষকে জিম্মি করে মেরে ফেলা কি ক্রুসেড? হায়রে বোকা মানুষ?
আমাদের এখন অনেক করনীয়। আপনার আসে পাশে যদি এমন কাউকে দেখেন যার চাল চলন সন্দেহের সাথে সাথে নজর রাখুন। আইন রক্ষা বাহিনী একা কোন দিন কোন দেশে এই সব দমন করতে পারেনি, পারবেনা। আমাদের ও তাদের সাহায্য করতে হবে। এই দেশে (অস্ট্রেলিয়ায়) যেমন আছে একটা টোল ফ্রি ক্রাইম স্টপ নাম্বার। নাগরিকেরা সন্দেহ জনক কিছু দেখলেই কল করে। আমাদের দেশেও এমন কোন হেল্প লাইন চালু করা যায়। সরকারকে অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে, সবাইকে একযোগে আমাদের সন্তানদের কে রক্ষা করতে হবে। সচেতন নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে কোন অন্যায়, দুর্নীতি দেখলে সাথে সাথে ওদের জানান। সামাজিক মাধ্যমে দিয়ে দিন। পারলে ফেসবুকে লাইভ হয়ে যান।
হতাশ মানুষ ভালবাসা চায়। আমি মনে করি কেউ অনেক ভালবাসা পেলে কোনদিনই হতাশ হতে পারেনা। কোন রকমের জিঘাংসায় নেমে যেতে পারেনা। ভালবাসুন, প্রাণ খুলে হাসুন। দেখবেন আপনার পক্ষে হতাশ হওয়া অনেক কঠিন। আমি এটা মেনে চলি। মন খারাপ হলেই হাঁসির কিছু দেখি সেটা মুভি হোক, ইউটিউব হোক।সমাজ যত ভালবাসাহীন হবে, যত আমরা মানুষ থেকে দূরে সরে যাব মানুষ ততই অমানুষ হয়ে যাবে, দেখবেন।
কাজেই প্রিয় বাবা মায়েরা, আপনার বাচ্চাদেরকে সময় দিন, তাদের নিয়ে ঘুরতে যান, তাদেরকে সামাজিক জীব বানান, সহনশীল হতে শেখান। মনে রাখবেন ওরা কিন্তু ভালবাসার কাঙ্গাল। ওদেরকে যত ভালবাসায় অভুক্ত রাখবেন ওরা ততই বিপদজনক হয়ে উঠবে। ওদেরকে মানুষ বানান, মানুষ মারার কারিগর না।
আর ধর্মেও তো বলা আছে হতাশ হইওনা যদি মুমিন হও। কাজেই মুমিন হন, হতাশ না, খুনি না।
No comments:
Post a Comment